অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বর্তমান বিশ্বের শ্রমবাজার, শ্রমিক সম্পর্ক ও শ্রম স্থানান্তর দ্রুত পরিবর্তনশীল। দেশে দেশে সম্পদের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সংস্কৃত, ঐতিহ্য, লিঙ্গ সম্পর্ক ইত্যাদির ক্ষেত্রে এসেছে পরিবর্তনের ঢেউ।
- ক)(1)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কি?
- খ)(2)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কেন সংঘটিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি দ্বারা আন্তর্জাতিকীকরণ এর কোন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কিভাবে প্রভাবিত করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে বিভিন্ন অঞ্চল বা ব্যক্তির মধ্যে পরিচালিত পণ্য ও সেবার কেনাবেচাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের সব অঞ্চলে সব ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ, কাঁচামাল বা আবহাওয়া সমভাবে বিদ্যমান থাকে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ শ্রমিকের প্রাপ্যতা এবং বিশেষায়নের পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচে ভিন্নতা দেখা দেয়। এর ফলে উদ্বৃত্ত অঞ্চলের সাথে ঘাটতি অঞ্চলের বিনিময় অপরিহার্য হয়ে ওঠে এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সংঘটিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি দ্বারা আন্তর্জাতিকীকরণের অন্যতম প্রধান রূপ 'বিশ্বায়ন' (Globalization)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি বহুমুখী প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা একটি সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক কাঠামোর সাথে যুক্ত হয়। এর ফলে পণ্য, মূলধন, শ্রম, তথ্য ও সংস্কৃতির অবাধ আন্তর্জাতিক প্রবাহ ঘটে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে বর্তমান বিশ্বের শ্রমবাজার ও শ্রম স্থানান্তর দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং বিভিন্ন দেশে সম্পদের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এগুলো স্পষ্টভাবে একটি একক বিশ্ব-ব্যবস্থায় দেশগুলোর একত্রীকরণ বা বিশ্বায়ন প্রক্রিয়াকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বহুমুখী ও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাব রয়েছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ইতিবাচক প্রভাব:
- কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে এবং দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে।
- রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণ: অবাধ বাণিজ্যের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের অবাধ সুযোগ পাচ্ছে।
- প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর: আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার অনুপ্রবেশ ঘটে যা দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
২. নেতিবাচক প্রভাব:
- তীব্র প্রতিযোগিতা: আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনীতির পণ্যের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় দেশীয় কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
- মেধা পাচার (Brain Drain): উন্নত সুযোগ-সুবিধার কারণে দেশের উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ বিদেশে পাড়ি জমায়, ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে মেধার ঘাটতিতে পড়ে।
- সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা: সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে নিজস্ব ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা তৈরি হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত বিশ্বায়ন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উভয়েই বয়ে আনে। নীতিগত সংস্কার ও উপযুক্ত মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমেই এর ইতিবাচক সুবিধা সর্বোচ্চ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও