জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
স্থূলতা কী?
- খ)(2)
অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' চিহ্নিত অংশে আমিষজাতীয় খাদ্য পরিপাক বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি বিপাকীয় কাজের পাশাপাশি সঞ্চয়ী কাজেও ভূমিকা রাখে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছানোকে স্থূলতা (Obesity) বলে। সাধারণত BMI ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূলতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব গ্রন্থি একই সাথে বহিঃক্ষরা (Exocrine) এবং অন্তঃক্ষরা (Endocrine) গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে, তাদের মিশ্রগ্রন্থি বলে।
অগ্ন্যাশয়ের অ্যাসিনাস অংশ নালির মাধ্যমে পাচক রস বা এনজাইম (যেমন: ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ইত্যাদি) ডিওডেনামে ক্ষরণ করে বহিঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। অপরদিকে, এর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স অংশ থেকে নালিবিহীনভাবে সরাসরি রক্তে হরমোন (যেমন: ইনসুলিন, গ্লুকাগন ইত্যাদি) ক্ষরিত হয়, যা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো ভূমিকা রাখে। উভয় ধরনের কার্যকারিতা বিদ্যমান থাকায় অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম (ক্ষুদ্রান্ত্র)। এখানে আমিষজাতীয় খাদ্যের রাসায়নিক পরিপাক অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রসের বিভিন্ন প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের সহায়তায় সম্পন্ন হয়:
১. অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইম দ্বারা পরিপাক:
- ট্রিপসিন: নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন অন্ত্রের এন্টারোকাইনেজ দ্বারা সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিণত হয়। এটি প্রোটিওজ ও পেপটোনকে ভেঙে ক্ষুদ্র পেপটাইড (পলিপেপটাইড)-এ রূপান্তরিত করে।
- কাইমোট্রিপসিন: ট্রিপসিন দ্বারা সক্রিয় হয়ে কাইমোট্রিপসিন প্রোটিন ও পেপটোনকে সরল পেপটাইডে পরিণত করে।
- কার্বক্সিপেপটাইডেজ: পলিপেপটাইডের প্রান্তীয় পেপটাইড বন্ধন ভেঙে সরল পেপটাইড ও অ্যামিনো এসিড উৎপন্ন করে।
- অন্যান্য এনজাইম: ইলাস্টেজ ও কোলাজিনেজ যথাক্রমে ইলাস্টিন ও কোলাজেন আমিষকে ভেঙে পেপটাইডে পরিণত করে।
২. আন্ত্রিক রসের এনজাইম দ্বারা পরিপাক:
- অ্যামিনোপেপটাইডেজ: পলিপেপটাইডকে ভেঙে ডাইপেপটাইড ও অ্যামিনো এসিডে রূপান্তর করে।
- ডাইপেপটাইডেজ: ডাইপেপটাইডকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে একক অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
এভাবে বিভিন্ন এনজাইমের ক্রিয়ায় জটিল আমিষ খাদ্য ভেঙে শেষ পর্যন্ত দেহে শোষণোপযোগী সরল উপাদান 'অ্যামিনো এসিড'-এ পরিণত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো যকৃৎ (Liver), যা মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি এবং একে মানবদেহের 'জৈব রসায়নাগার' বলা হয়। এটি বিপাকীয় ও সঞ্চয়ী উভয় ধরনের কাজই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: অতিরিক্ত রক্তস্থিত গ্লুকোজকে ইনসুলিনের সহায়তায় গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে।
২. চর্বি ও অ্যামিনো এসিড সঞ্চয়: প্রয়োজনে অতিরিক্ত শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইড ও চর্বি হিসেবে এবং অ্যামিনো এসিড সঞ্চয় করে রাখে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয়: স্নেহ-দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B12, ফলিক এসিড) সঞ্চয় করে।
৪. খনিজ লবণ সঞ্চয়: রক্ত ভেঙে প্রাপ্ত লৌহ (ফেরিটিন হিসেবে), তামা, পটাশিয়াম ইত্যাদি সঞ্চয় করে।
৫. রক্ত সঞ্চয়: যকৃতে বিপুল পরিমাণ রক্ত সাময়িক ভাণ্ডার হিসেবে জমা থাকে।যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক: রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দিলে গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং নন-কার্বোহাইড্রেট উৎস থেকে গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ উৎপন্ন করে রক্তের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।
২. আমিষ বিপাক: অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিডকে ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় ভেঙে কিটো এসিড ও অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে। এরপর অর্নিথিন চক্রের মাধ্যমে অ্যামোনিয়াকে বিষহীন ইউরিয়ায় রূপান্তর করে।
৩. লিপিড বিপাক: ফ্যাটি এসিডের বিটা-অক্সিডেশন, কোলেস্টেরল ও পিত্তলবণ সংশ্লেষণ এবং লিপোপ্রোটিন তৈরি করে।
৪. বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয়করণ: বিভিন্ন ওষুধ, বিষাক্ত বর্জ্য এবং অ্যালকোহলকে নিষ্ক্রিয় বা বিপাক করে দেহকে বিষমুক্ত রাখে।অতএব, দেখা যায় যে যকৃৎ একদিকে যেমন বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় উপাদান সঞ্চয় করে রাখে, তেমনি দেহের প্রধান রাসায়নিক বিপাকীয় ক্রিয়াগুলোও নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং, অঙ্গটি বিপাকীয় কাজের পাশাপাশি সঞ্চয়ী কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও