রসায়ন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
হুন্ডের নীতিটি লেখ।
- খ)(2)
AgNO3AgNO_3 দ্রবণকে রঙিন বোতলে রাখা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের A এর পরিষ্কারকরণ কৌশল বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
B, C ও D এর মধ্যে কোনটিতে সামান্য তড়িৎ বিশ্লেষ্য যোগ করলেও কোয়াগুলেশন হবে না? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই উপশক্তিস্তরের বিভিন্ন সমশক্তিসম্পন্ন অরবিটালগুলোতে ইলেকট্রনগুলো প্রথমে এমনভাবে এককভাবে প্রবেশ করে যেন তাদের স্পিন একইমুখী বা সমমুখী হয় এবং সম্ভাব্য সর্বাধিক সংখ্যায় বিজোড় ইলেকট্রন বিদ্যমান থাকে। এটিই হুন্ডের নীতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিলভার নাইট্রেট (AgNO₃) দ্রবণ আলোর উপস্থিতিতে আলোক-বিয়োজন বিক্রিয়া ঘটায় এবং বিয়োজিত হয়ে সিলভার (Ag), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂) এবং অক্সিজেন (O₂) গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। ফলে দ্রবণের ঘনমাত্রা হ্রাস পায় ও দ্রবণটি বিনষ্ট হয়। রঙিন বোতল দৃশ্যমান ও অতিবেগুনি রশ্মিকে বোতলের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেয়। তাই আলোক-বিয়োজন রোধ করে দ্রবণটিকে স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত রাখতে AgNO₃ দ্রবণকে রঙিন বোতলে রাখা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' উপাদানটি হলো টয়লেট ক্লিনার। সাধারণত টয়লেট ক্লিনারের মূল সক্রিয় উপাদান হিসেবে শক্তিশালী ক্ষার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এবং বিরঞ্জক/জীবাণুনাশক হিসেবে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaOCl) ব্যবহৃত হয়।
পরিষ্কারকরণ কৌশল:
১. চর্বি ও তৈলাক্ত ময়লা দূরীকরণ: কমোড ও বেসিনে জমে থাকা চর্বি বা তৈলাক্ত ময়লা NaOH-এর উপস্থিতিতে সাবানায়ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রবণীয় সাবান ও গ্লিসারলে পরিণত হয় এবং পানির সাহায্যে ধুয়ে অপসারিত হয়:
চর্বি/তেল + NaOH → সাবান + গ্লিসারল২. অজৈব ক্ষারীয় ময়লা দূরীকরণ: টয়লেটে জমে থাকা ধাতব অক্সাইড বা খনিজ লবণ ক্ষারীয় বা নিরপেক্ষ অবস্থায় দূরীভূত হয়। এ ছাড়া যেসব ফর্মুলেশনে মৃদু অ্যাসিড থাকে তা ক্ষারীয় ক্যালসিয়াম/ম্যাগনেসিয়াম লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দ্রবণীয় লবণ গঠন করে।
৩. জীবাণুনাশ ও দাগ দূরীকরণ: এতে উপস্থিত NaOCl পানিতে বিয়োজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন [O] উৎপন্ন করে:
NaOCl + H₂O → NaOH + HOCl
HOCl → HCl + [O]
এই তীব্র জারক জায়মান অক্সিজেন দাগ সৃষ্টিকারী রঙিন যৌগকে জারিত করে বর্ণহীন করে এবং ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর জারিত করে জীবাণু ধ্বংস করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি মিশ্রণের প্রকৃতি নিম্নরূপ:
- B (দুধ): এটি একটি কলয়েড (ইমালশন);
- C (চিনির জলীয় দ্রবণ): এটি একটি প্রকৃত দ্রবণ (True Solution);
- D (কাদা পানি): এটি একটি সাসপেনশন (Suspension)।
এদের মধ্যে C অর্থাৎ চিনির জলীয় দ্রবণে সামান্য তড়িৎ বিশ্লেষ্য যোগ করলেও কোনো কোয়াগুলেশন (Coagulation) বা অধঃক্ষেপণ হবে না।
যুক্তিসহ ব্যাখ্যা:
১. চিনির দ্রবণ (C): চিনি (সুক্রোজ) একটি অপোলার বা অ-আয়নিক জৈব যৌগ। পানিতে চিনির অণুগুলো পানির অণুর সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করে আণবিক আকারে সমসত্ত্বভাবে দ্রবীভূত থাকে। এই দ্রবণের কণাগুলোর উপর কোনো আধান (চার্জ) থাকে না। কোয়াগুলেশন মূলত আধানযুক্ত কলয়েড কণার আধান প্রশমনের ফলে ঘটে থাকে। যেহেতু চিনির জলীয় দ্রবণে কোনো আধানযুক্ত কলয়েডীয় কণা উপস্থিত নেই, তাই এতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য যোগ করলে কণাগুলোর কোনো প্রশমন বা তঞ্চন ঘটে না। ফলে কোনো কোয়াগুলেশন হয় না।২. দুধ (B) ও কাদা পানি (D): দুধ হলো চর্বি ও পানির ইমালশন, যেখানে প্রোটিনের (কেসিন) উপস্থিতির কারণে কণাগুলো ঋণাত্মক আধানযুক্ত থাকে। কাদা পানিতেও মাটির কণাগুলো পৃষ্ঠতলীয় ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট থাকে। এগুলোতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য যোগ করলে এর বিপরীত আধানযুক্ত ক্যাটায়নগুলো কলয়েডীয় বা সাসপেনশন কণার চার্জ প্রশমিত করে। চার্জ নিরপেক্ষ হয়ে কণাগুলো পরস্পরের সংস্পর্শে এসে জমাট বাঁধে এবং অধঃক্ষিপ্ত বা কোয়াগুলেটেড হয়।
সুতরাং, B, C ও D এর মধ্যে C-তে (চিনির জলীয় দ্রবণ) সামান্য তড়িৎ বিশ্লেষ্য যোগ করলেও কোয়াগুলেশন ঘটবে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও