ভূগোল ২য় পত্র • খনিজ ও শক্তি সম্পদ • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ধাতব খনিজ কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশ সারশিল্পে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত দেশটির লৌহ আকরিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' চিহ্নিত মহাদেশের লৌহ আকরিক উৎপাদনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব খনিজ পদার্থ গলিয়ে ধাতু নিষ্কাশন করা যায় এবং যা সাধারণত চকচকে, শক্ত ও তাপ-বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়, সেগুলোকে ধাতব খনিজ বলে (যেমন: লোহা, তামা, সোনা ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ প্রধানত ইউরিয়া সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। ইউরিয়া সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস, যা বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান। দেশে বেশ কয়েকটি বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে (যেমন: শাহজালাল, যমুনা, আশুগঞ্জ সার কারখানা ইত্যাদি), যা দেশের অভ্যন্তরীণ ইউরিয়া সারের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করতে সক্ষম। তবে ফসফেট ও পটাশ সারের কাঁচামাল না থাকায় এগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়; সামগ্রিকভাবে ইউরিয়া সারের বড় অংশের উৎপাদন অভ্যন্তরীণ হওয়ায় বাংলাদেশকে সারশিল্পে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানচিত্রে তীরচিহ্ন দিয়ে নির্দেশিত 'ক' চিহ্নিত দেশটি হলো এশিয়া মহাদেশের জাপান।
জাপানে লৌহ আকরিকের উৎপাদন ও বণ্টন:
জাপান একটি শিল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে লৌহ আকরিকের মজুত ও উৎপাদন অত্যন্ত নগণ্য।
১. উৎপাদন: জাপানে নিজস্ব কোনো উল্লেখযোগ্য লোহার খনি নেই। অতি সামান্য পরিমাণ আকরিক লোহা হংসু ও হোক্কাইডো দ্বীপের কিছু অঞ্চল থেকে আহরিত হয়, যা দেশটির বিশাল লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের মোট চাহিদার ১ শতাংশেরও কম পূরণ করে।
২. বণ্টন: প্রধানত কামাইশি (হংসু দ্বীপ) এবং কুচান (হোক্কাইডো) অঞ্চলে সীমিত পরিমাণে লৌহ আকরিক পাওয়া যায়।
অতএব, জাপান তার ইস্পাত কারখানার কাঁচামাল হিসেবে প্রয়োজনীয় লৌহ আকরিকের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত প্রভৃতি দেশ থেকে সমুদ্রপথে আমদানি করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানচিত্রে 'খ' চিহ্নিত মহাদেশটি হলো উত্তর আমেরিকা এবং 'গ' চিহ্নিত মহাদেশটি হলো এশিয়া। নিচে এ দুটি মহাদেশের লৌহ আকরিক উৎপাদনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. উৎপাদনের পরিমাণ ও বৈশ্বিক অবস্থান:
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী লৌহ আকরিক উত্তোলনে এশিয়া মহাদেশ উত্তর আমেরিকা মহাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এশিয়ার দেশ চীন এবং ভারত এককভাবেই বিশ্বে যথাক্রমে অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার প্রধান উৎপাদক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এশিয়ার মতো বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করে না।২. প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চল ও বণ্টন:
- এশিয়া মহাদেশ ('গ'): এশিয়ার প্রধান লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন (আনশান, বেনশি, হেবাই, সিচুয়ান), ভারত (ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, কর্ণাটক) এবং কাজাখস্তান। বিশ্ব উৎপাদনের একটি বড় অংশ এই অঞ্চল থেকেই উত্তোলিত হয়।
- উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ('খ'): উত্তর আমেরিকার প্রধান উৎপাদক হলো যুক্তরাষ্ট্র (সুপিরিয়র হ্রদ অঞ্চল—মেসাবি রেঞ্জ, অ্যালাবামা) এবং কানাডা (ল্যাব্রাডর ট্রাফ, কুইবেক)। এখানে উচ্চমানের হেমাটাইট ও ম্যাগনেটাইট আকরিক পাওয়া যায়।
৩. নিজস্ব ব্যবহার ও বাণিজ্য:
এশিয়া মহাদেশের চীন ও ভারত বিপুল পরিমাণ লৌহ আকরিক উৎপাদন করার পাশাপাশি নিজেদের বিশাল অবকাঠামো ও শিল্পায়নের কারণে বেশিরভাগ উৎপাদন অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহার করে; এমনকি চীন বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারকও বটে। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা তাদের উৎপাদনের একটি বড় অংশ রপ্তানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু অংশ আমদানি-রপ্তানি করে।পরিশেষে বলা যায়, ভৌগোলিক বিস্তার এবং উত্তোলনের পরিমাণের দিক থেকে উত্তর আমেরিকা অপেক্ষা এশিয়া মহাদেশে লৌহ আকরিক উৎপাদন বর্তমানে বহুলাংশে বেশি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও