জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি প্রাণী দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গ শ্বসনে ব্যবহার করে এবং পানিতেই তার দেহের গ্যাসীয় উপাদানের বিনিময় ঘটায়।

  1. ক)

    অ্যানুলি কী?

    (1)
  2. খ)

    ভেবেরিয়ান অসিকল কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রাণীর অঙ্গের গঠন ও কাজ লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রাণীটি পানিতে যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অ্যানেলিডা (Annelida) পর্বের প্রাণীদের দেহের বাইরে বিদ্যমান আংটির মতো খাঁজ বা খণ্ডকগুলোকে অ্যানুলি (Annuli, একবচনে Annulus) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কার্পজাতীয় বা কিছু অস্থিময় মাছে অন্তঃকর্ণ ও পটকার (বায়ুথলি) সংযোগকারী হিসেবে পরপর সাজানো চারজোড়া ছোট ছোট অস্থির (ক্লথ্রাম, ইন্টারক্যালারিয়াম, ট্রাইপাস এবং স্ক্যাফিয়াম) সমন্বয়ে গঠিত অস্থি-শৃঙ্খলকে ভেবেরিয়ান অসিকল (Weberian ossicles) বলে। এটি শব্দতরঙ্গ ও চাপ সংক্রান্ত সংবেদন পটকা থেকে অন্তঃকর্ণে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে শ্রবণ ও ভারসাম্যে ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো মাছ এবং দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট অঙ্গটি হলো মাছের হৃৎপিণ্ড (ভেনাস হার্ট)। তবে গ্যাসীয় বিনিময়ে সরাসরি ব্যবহৃত প্রধান শ্বসন অঙ্গ হলো ফুলকা। নিচে মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ ফুলকার গঠন ও কাজ আলোচনা করা হলো:

    ১. গঠন:
    ক. ফুলকা আর্চ (Gill Arch): এটি তরুণাস্থিময় বা অস্থিময় বাঁকা অংশ, যা ফুলকাকে গলবিলের প্রাচীরের সাথে ধরে রাখে।
    খ. ফুলকা রেকার (Gill Rakers): ফুলকা আর্চের ভেতরের দিকে সূক্ষ্ম কাঁটার মতো অংশ থাকে, যা খাদ্যকণাকে ফুলকার প্রকোষ্ঠে প্রবেশে বাধা দেয়।
    গ. ফুলকা ফিলামেন্ট বা ল্যামেলি (Gill Filaments/Lamellae): ফুলকা আর্চের বাইরের দিকে দুই সারিতে সজ্জিত পাতলা ফিলামেন্ট থাকে। এগুলো প্রাথমিক ও গৌণ ল্যামেলিতে বিভক্ত, যা প্রচুর কৈশিক জালকসমৃদ্ধ এবং গ্যাস বিনিময়ের মূল তল হিসেবে কাজ করে।

    ২. কাজ:
    ক. পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (O₂) রক্তে গ্রহণ করা।
    খ. দেহের বিপাকীয় কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) পানিতে নির্গমন করা।
    গ. দেহের আয়নিক ও অভিস্রবণিক ভারসাম্য রক্ষায় ফুলকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রাণীটি (মাছ) পানিতে যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে তা হলো শ্বসন প্রক্রিয়া বা জলীয় গ্যাসীয় উপাদান বিনিময় প্রক্রিয়া। নিচে মাছের ফুলকার মাধ্যমে সম্পন্ন শ্বাসক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো:

    মাছের শ্বাসক্রিয়া প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়—
    ১. প্রশ্বাস বা শ্বাসগ্রহণ (Inspiration):
    প্রথমে মাছের মুখবিবর প্রসারিত হয় এবং গলবিলীয় প্রাচীর নিচে নেমে যায়। একই সময়ে অপারকুলাম (কানকো) বাইরের দিকে চেপে থাকে এবং ব্র্যাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা ফুলকা ছিদ্র বন্ধ রাখে। ফলে মুখবিবরে একটি ঋণাত্মক চাপের সৃষ্টি হয় এবং মুখছিদ্র দিয়ে পানি ভেতরে প্রবেশ করে।

    ২. নিঃশ্বাস বা শ্বাসত্যাগ (Expiration):
    মুখছিদ্রের ভেতরের কপাটিকা (ওরাল ভালভ) বন্ধ হয়ে যায় এবং মুখবিবরের পেশি সংকুচিত হয়ে পানিকে গলবিল ও ফুলকা প্রকোষ্ঠের দিকে ঠেলে দেয়। এরপর গলবিলের অভ্যন্তরীণ চাপে ব্র্যাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা আলগা হয়ে অপারকুলার ছিদ্র উন্মুক্ত হয়।

    গ্যাসীয় বিনিময় (Counter-current Mechanism):
    পানি যখন ফুলকা ল্যামেলির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন বিপরীতমুখী রক্তপ্রবাহ বা কাউন্টার-কারেন্ট পদ্ধতির কারণে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘনত্ব রক্তজালকের অক্সিজেনের চেয়ে বেশি থাকে। ফলে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানি থেকে O₂ রক্তের হিমোগ্লোবিনে প্রবেশ করে এবং রক্ত থেকে বর্জ্য CO₂ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানিতে মুক্ত হয়। এরপর দূষিত পানি কানকো ফাঁক দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।

    এভাবেই মাছ পানিতে ফুলকার সহায়তায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গ্যাসীয় বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন