ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি বিশাল রাজ্য। এই রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছিল। সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন অঞ্চলের, বিভিন্ন জাতির সৈনিকের সমাবেশ ছিল। এক সময় দেখা গেলো শাসক শ্রেণির জাতিভুক্ত সৈন্যদের আলাদাভাবে বেতন প্রদান করা হচ্ছে। এতে করে সৈন্যদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তারা বেতন বৈষম্যের অবসান চেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়। পারিপার্শ্বিক কিছু বিষয় সৈন্যদেরকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেয়।
- ক)(1)
ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
- খ)(2)
স্বত্ববিলোপ নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সৈন্যদের বিদ্রোহের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিদ্রোহের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী)। তবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বত্ববিলোপ নীতি (Doctrine of Lapse) হলো লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক প্রবর্তিত একটি আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী নীতি। এই নীতি অনুসারে, কোম্পানির অধীনস্থ কোনো ভারতীয় দেশীয় রাজ্যের শাসক যদি কোনো স্বাভাবিক বা ঔরসজাত পুরুষ উত্তরাধিকারী ছাড়া মৃত্যুবরণ করতেন, তবে সেই রাজ্য দত্তক পুত্রের অধিকারে যেত না; বরং তা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হতো। এই নীতি প্রয়োগ করে ডালহৌসি সাতারা, নাগপুর, ঝাঁসি প্রভৃতি রাজ্য ব্রিটিশদের দখলে নেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সৈন্যদের অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৮৫৭ সালের 'সিপাহি বিদ্রোহ' বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন জাতির সৈন্য থাকলেও শাসক শ্রেণির সৈন্যদের অগ্রাধিকার ও বেতন বৈষম্য দেওয়া হতো এবং এর সাথে পারিপার্শ্বিক নানা কারণে সৈন্যরা আন্দোলনে লিপ্ত হয়। ব্রিটিশ ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীতেও ভারতীয় সিপাহিদের সাথে ব্রিটিশ সৈন্যদের চরম বেতন বৈষম্য, পদোন্নতিতে বাধা এবং বর্ণবৈষম্য করা হতো। এর সাথে সাথে এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে চর্বি মেশানোর গুজব ও ধর্মীয় আঘাত সিপাহিদের চূড়ান্ত বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দেয়, যা ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহে রূপ নেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী—এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
এই বিদ্রোহে সিপাহিরা ব্যর্থ হলেও এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ছিল গভীর:
১. কোম্পানির শাসনের অবসান: ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজপরিবার বা মহারানী ভিক্টোরিয়ার হাতে চলে যায়।
২. শাসননীতিতে পরিবর্তন: মহারানির ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রে দেশীয় রাজ্য গ্রাস ও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হয়।
৩. সামরিক সংস্কার: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ইউরোপীয় সৈন্যের অনুপাত বৃদ্ধি করা হয় এবং ভারতীয় সৈন্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সমরাস্ত্র থেকে দূরে সরিয়ে দলভিত্তিক বিন্যাস করা হয়।
৪. জাতীয়তাবাদের বিকাশ: এই বিদ্রোহ ভারতীয়দের মনে পরাধীনতার গ্লানি দূর করে ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনার সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত তৈরি করে। অতএব, এর প্রভাব উপমহাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও