পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১ : একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নানা বয়সের মানুষ জড়ো হয়। সবার হাতে একই রঙের পতাকা, মুখে একই ভাষার গান। কেউ ইতিহাসের গল্প করছে, কেউ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছে। ভিন্ন পেশা ও এলাকার মানুষ হলেও তাদের অনুভূতি ও লক্ষ্য যেন এক জায়গায় এসে মিলেছে।
দৃশ্যপট-২ : স্বাধীনতা বার্ষিকীতে শহরের কেন্দ্রীয় উদ্যান প্রাণময় হয়ে ওঠে। শিশুরা পতাকা হাতে দৌড়াচ্ছে, গান গাইছে, তরুণীরা মঞ্চে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। পাশের চা স্টলে মানুষ হর্ষধ্বনি তুলছে। কেউ কেউ মোবাইলে সরাসরি দেখছে। চারপাশের সবাই একই উদ্দীপনায় মিলিত, মাটির প্রতি ভালোবাসা আর দেশের উন্নয়নের আশায় মুখে হাসি, চোখে আলো।
- ক)(1)
আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে?
- খ)(2)
“বাঙালির জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পঠিত বিষয়ের সাদৃশ্য দেখাও এবং নাগরিকদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে তোমার সুপারিশ মালা পেশ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক জাতীয় রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বা রূপকার হলেন নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি (Niccolò Machiavelli)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তাবোধ হলো একটি মানসিক বা আত্মিক অনুভূতি, যা সমজাতীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একটি জনসমষ্টিকে ঐক্যবদ্ধ করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি বুঝতে পেরেছিল যে তাদের ওপর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াই দল, মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতিকে এক অবিচ্ছেদ্য ঐক্যের সূত্রে আবদ্ধ করে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তাই বাঙালির জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ে আলোচিত 'ভাষাগত জাতীয়তাবাদ' এবং 'বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
জাতীয়তাবাদ হলো এমন এক মানসিক বা আত্মিক ঐক্য, যেখানে কোনো জনসমষ্টি অভিন্ন ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের অন্য সবার চেয়ে আলাদা ও একাত্ম অনুভব করে। দৃশ্যপট-১ এ একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভিন্ন পেশা, বয়স ও এলাকার মানুষের একই গানের সুরে এবং একই পতাকাতলে মিলিত হওয়ার দৃশ্য বর্ণিত হয়েছে। এই সম্মিলিত আবেগ, অভিন্ন ভাষার প্রতি মমত্ববোধ এবং জাতীয় ইতিহাসকে ধারণ করে একসূত্রে মিলিত হওয়ার অনুভূতি মূলত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উজ্জ্বল প্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়টি স্বাধীনতা দিবসের আনন্দমুখর পরিবেশ এবং নাগরিকদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত 'দেশপ্রেম' (Patriotism) ও জাতীয় ঐক্যের অনুভূতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির সাথে নিজেদের একাত্ম করে দেশের মাটিকে ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ দৃশ্যপটে দেখা গেছে, তা খাঁটি দেশপ্রেমের লক্ষণ।
নাগরিকদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে আমার সুপারিশমালা নিম্নে পেশ করা হলো:
১. মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং জাতীয় বীরদের আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা।
২. জাতীয় প্রতীক ও দিবসের মর্যাদা রক্ষা: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় দিবসসমূহের তাৎপর্য অনুধাবন করে সেগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা।
৩. সুনাগরিকের গুণাবলির বিকাশ: নাগরিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যেমন—আইন মান্য করা, নিয়মিত কর প্রদান করা ও ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন করা।
৪. দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন: রাষ্ট্রে সুশাসন, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, যেন নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাশীল ও গভীরভাবে অনুরক্ত হয়।
৫. সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশগ্রহণ: তরুণ সমাজকে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা।এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকদের মনে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তারা দেশের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও