যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

মাহিন একে একে একটি সেল্ফের বই পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। সেখানে ৫০টি বই আছে। বইগুলোর সবগুলোই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।

  1. ক)

    প্রকৃত আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত কি নিশ্চিত?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ বা উল্লম্ফন বিদ্যমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত। কারণ, বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে। এখানে কয়েকটি বাস্তব দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ করে তাদের মধ্যে একটি অনিবার্য কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করা হয়। যেহেতু এটি পরীক্ষিত সত্য ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত ও সংশয়াতীত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (Perfect Induction)-এর মিল রয়েছে।

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় কোনো একটি সার্বিক বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি দৃষ্টান্ত একে একে পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। এতে কোনো আরোহমূলক লম্ফ থাকে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মাহিন একটি বুকশেলফের ৫০টি বই একে একে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পেল সবগুলো বই-ই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এখানে সে ৫০টি বইয়ের প্রতিটি আলাদাভাবে নিরীক্ষণ করে সার্বিক ধারণা নিয়েছে। কোনো অনুমানের অবকাশ বা অজ্ঞাত থেকে জ্ঞাতে যাওয়ার কোনো আরোহমূলক লম্ফ এখানে ছিল না। প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এটি যুক্তিবিদ্যার পূর্ণাঙ্গ আরোহের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ'। যুক্তিবিদ্যার আলোকে পূর্ণাঙ্গ আরোহের আরোহ হিসেবে যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত।

    যুক্তিবিদ মিল এবং বেনের মতে, পূর্ণাঙ্গ আরোহ কোনো প্রকৃত আরোহ নয়, বরং এটি আরোহাভাস বা তথাকথিত আরোহ। কারণ, আরোহের মূল প্রাণ বা বৈশিষ্ট্য হলো 'আরোহমূলক লম্ফ' (Inductive Leap)—অর্থাৎ জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে, বা কতিপয় থেকে সকলে উত্তরণ। পূর্ণাঙ্গ আরোহে কোনো লম্ফ থাকে না, কেননা এখানে সমষ্টির প্রতিটি সদস্যকেই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, মাহিনের সেল্ফের ৫০টি বইয়ের ৫০টিই পরীক্ষা করা হয়েছে, নতুন কোনো বই সম্পর্কে অজ্ঞাত সত্য জানার সুযোগ এতে নেই।

    তবে যুক্তিবিদ অ্যারিস্টটলের দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ আরোহকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে, কারণ এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিশ্চিত ও সংশয়হীন। এতে কোনো সম্ভাব্যতার ঝুঁকি থাকে না। গাণিতিক ক্ষেত্রে এবং সীমিত পরিসরে সংক্ষিপ্ত বিবরণী উপস্থাপনে এটি বেশ সহায়ক।

    পরিশেষে বলা যায়, যদিও পূর্ণাঙ্গ আরোহ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে এবং তথ্যকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তবুও আরোহের মূল লক্ষণ বা আরোহমূলক উল্লম্ফন না থাকায় একে আধুনিক যুক্তিবিদ্যায় 'প্রকৃত আরোহ' হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাই পূর্ণাঙ্গ আরোহের আরোহ হিসেবে যথার্থতা আংশিক বা সীমাবদ্ধ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন