‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা ৩টি। প্রতিটি সমাজের মানুষকে এ সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এ সব সমস্যার বিভিন্ন সমাধান রয়েছে। তবে ধনতান্তিক অর্থব্যবস্থায় দামব্যবস্থার মাধ্যমে এর সমাধান করা হয়।

  1. ক)

    দুষ্প্রাপ্যতা কী?

    (1)
  2. খ)

    সুযোগ ব্যয়ের উদ্ভব ঘটে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক সমস্যা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থব্যবস্থায় যে পদ্ধতির সাহায্যে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা হয় তা কি যথেষ্ট? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবজীবনের অসীম অভাবের তুলনায় অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা উপকরণের সীমাবদ্ধতা বা অপ্রতুলতাকে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা এবং অভাবের বহুবিধ ব্যবহারের কারণে সুযোগ ব্যয়ের উদ্ভব ঘটে।
    যেহেতু আমাদের সম্পদ সীমিত, তাই একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত উৎপাদন বা ভোগের সুযোগ গ্রহণ করতে হলে অন্য একটি দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগের সুযোগ ত্যাগ করতে হয়। এই ত্যাগকৃত সর্বোত্তম বিকল্পের মূল্যই হলো গৃহীত বিকল্পটির সুযোগ ব্যয়। সম্পদ সীমাবদ্ধ না থাকলে বা অভাব সীমাহীন না হলে কোনো বিকল্প ত্যাগ করতে হতো না এবং সুযোগ ব্যয়েরও সৃষ্টি হতো না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধ্যাপক পল এ. স্যামুয়েলসনের মতে, সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে প্রতিটি সমাজে মূলত তিনটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে এই তিনটি সমস্যার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে:

    ১. কী উৎপাদন করা হবে (What to produce?): সীমিত সম্পদ দিয়ে সমাজের জন্য কোন কোন পণ্য বা সেবা কী পরিমাণে উৎপাদিত হবে, তা নির্ধারণের সমস্যা। যেমন— খাদ্য নাকি শিল্পপণ্য, বা ভোগ্যপণ্য নাকি মূলধনি পণ্য উৎপাদন করা হবে।

    ২. কীভাবে উৎপাদন করা হবে (How to produce?): উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোন প্রযুক্তি বা কৌশল ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ, শ্রমঘন পদ্ধতি (Labour-intensive) নাকি মূলধনঘন পদ্ধতি (Capital-intensive) প্রয়োগ করা হবে, তা ঠিক করা।

    ৩. কার জন্য উৎপাদন করা হবে (For whom to produce?): উৎপাদিত পণ্য ও সেবা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি বা জনগণের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত হবে তা নির্ধারণের সমস্যা। অর্থাৎ সমাজের ধনী নাকি দরিদ্র শ্রেণির জন্য উৎপাদন পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থব্যবস্থাটি হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা, যেখানে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো 'স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা' (Price Mechanism)-র মাধ্যমে সমাধান করা হয়। তবে আমার মতে, এ পদ্ধতির সাহায্যে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান পুরোপুরি যথেষ্ট নয়।

    ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাতে মুক্তভাবে দাম নির্ধারিত হয় এবং এই দামের ভিত্তিতেই কী, কীভাবে ও কার জন্য উৎপাদন করা হবে তা নির্ধারিত হয়। যেমন:
    ১. যে দ্রব্যের চাহিদা বেশি, তার দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদনকারী সেই দ্রব্য উৎপাদনে আগ্রহী হয়।
    ২. সর্বনিম্ন উৎপাদন ব্যয়ে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎপাদন কৌশল বেছে নেওয়া হয়।
    ৩. জনগণের ক্রয়ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পণ্য বণ্টিত হয়।

    কিন্তু এ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ যথেষ্ট নয়, কারণ:
    ১. বাজার ব্যর্থতা ও সামাজিক অকল্যাণ: স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা কেবল মুনাফাকে প্রাধান্য দেয়। ফলে তামাক বা ক্ষতিকর বিলাসপণ্যের উৎপাদন বাড়তে পারে এবং সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু কম লাভজনক গণদ্রব্য ও মেধা দ্রব্যের (শিক্ষা, স্বাস্থ্য) যোগান কমে যায়।
    ২. বৈষম্য বৃদ্ধি: এটি মূলত উচ্চবিত্ত বা ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন শ্রেণির জন্য পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে, ফলে দরিদ্র জনগণের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত হয় এবং সমাজে আয়বৈষম্য চরম রূপ নেয়।
    ৩. একচেটিয়া আধিপত্য: বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব ঘটলে কৃত্রিম সংকট ও ভোক্তাদের শোষণ সৃষ্টি হয়, যা সমাধান করতে দামব্যবস্থা ব্যর্থ হয়।

    অতএব, কেবল স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, পরিকল্পনা ও নীতিমালার সমন্বয় থাকা একান্ত প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন