বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসেনি কেহ অবনী 'পরে সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

  1. ক)

    'প্রতিদান' কবিতার চরণ সংখ্যা কতটি?

    (1)
  2. খ)

    কবি নিরন্তর কী সাজান? কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের কবির চেতনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির চেতনার সমান্তরাল"- মন্তব্যটি বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'প্রতিদান' কবিতার মোট চরণ সংখ্যা ১৬টি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবি নিরন্তর পরোপকারের মাধ্যমে ফুল দিয়ে বা ভালোবাসার অর্ঘ্য দিয়ে বাসর বা সুন্দর পরিবেশ সাজান।

    কবি জসীমউদ্দীন ক্ষমা, ত্যাগ ও পরম পরার্থপরতার আদর্শে বিশ্বাসী। যে ব্যক্তি কবির অনিষ্ট করেছে বা কবিকে আঘাত দিয়েছে, কবি তার প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা প্রতিশোধের মনোভাব পোষণ করেন না। বরং কবি অসীম ভালোবাসা, উদারতা ও ক্ষমার মাধ্যমে হিংসা-বিদ্বেষকে জয় করে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ এক মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য পরকে আপন করে নিয়ে বাসর সাজান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার মূল সাদৃশ্য পরার্থপরতা, নিঃস্বার্থ মনোভাব এবং মানবপ্রেমের চেতনায় নিহিত।

    'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন আত্মকেন্দ্রিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নিখাদ পরোপকারের কথা বলেছেন। যে কবির ক্ষতি করে, অনিষ্ট কামনা করে কিংবা ঘর ভাঙে, কবি প্রতিদানে তার মঙ্গল চান, তার ঘর বেঁধে দেন এবং ভালোবাসার ডালি নিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করেন। নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে অন্যের মঙ্গলে জীবন সঁপে দেওয়াই কবির ব্রত।

    উদ্দীপকের কবিতাংশে কামিনী রায়ের ভাবনায় একই বাণী ধ্বনিত হয়েছে। মানুষ কেবল নিজের স্বার্থ বা ব্যক্তিগত সুখ নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবীতে আসেনি; বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং পরস্পরের কল্যাণে নিবেদিত হওয়াই মানুষের মূল দায়িত্ব। স্বার্থপরতা ত্যাগ করে অন্যের জন্য বেঁচে থাকার এই মানবকল্যাণকামী ও পরোপকারী দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকেই উদ্দীপকটি 'প্রতিদান' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের কবির চেতনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির চেতনার সমান্তরাল"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকে কবি কামিনী রায় মানবজীবনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে পরার্থপরতাকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষ কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য পৃথিবীতে আসেনি। সমাজের প্রতিটি মানুষ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এবং অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। এখানে আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করে সমষ্টিগত মানবিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ ঘটেছে।

    অন্যদিকে, 'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন এই পরার্থপরতার চেতনাকে আরও একধাপ উচ্চে তুলে ধরেছেন পরম ক্ষমা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে। কবি কেবল সাধারণ পরোপকারই করেননি, বরং যে তাঁর ক্ষতি করেছে, তাঁর অনিষ্ট চেয়েছে, তাকেও তিনি ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। শত্রুতা ভুলে ক্ষমার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে নিজেকে অন্যের সেবায় উজাড় করে দেওয়াই কবির জীবনাদর্শ।

    উভয় কবিতার মূল সুর এক ও অভিন্ন—তা হলো আত্মস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়া এবং পরোপকারকে জীবনের পরম ধর্ম বলে গ্রহণ করা। যদিও 'প্রতিদান' কবিতায় ক্ষমার মাত্রাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, মূল ভিত্তির দিক থেকে উভয়ের লক্ষ্যই এক—পরের জন্য বাঁচা। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কবির চেতনা এবং 'প্রতিদান' কবিতার কবির চেতনা সমান্তরাল ধারায় প্রবাহিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন