বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

এতিম ডলি বড় হয়েছে মামা-মামীর কাছে। ডলির মামাও দরিদ্র মানুষ। বড় হবার পর ডলির বিয়ে হয়। মামা বিয়ের সময়ের যৌতুকের দাবি মেটাতে পারে না। ফলে তার ওপর চলে নিষ্ঠুর নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে ডলি একদিন নির্যাতক স্বামীর সংসার ফেলে আবার মামার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

  1. ক)

    বুড়ো রহমানের মেয়ে কোথায় মারা গেছে?

    (1)
  2. খ)

    "যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি থাকে মাসি-পিসি।"-কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ডলির সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে? কেন?

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে 'মাসি-পিসি' গল্পের সম্পূর্ণ বিষয় ফুটে উঠেনি।" মন্তব্যটির পক্ষে অথবা বিপক্ষে তোমার যুক্তি পেশ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বুড়ো রহমানের মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে অনাহারে ও নির্যাতনে মারা গেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লম্পট গোকুল ও তার গুন্ডাবাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে আহ্লাদীকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে মাসি-পিসি যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি থাকে।

    আহ্লাদীর স্বামী জগু এবং গ্রামের জোতদার গোকুল আহ্লাদীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করে। তাদের লোলুপ দৃষ্টি ও সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে মাসি-পিসি সচেতন ছিল। তাই ঘরের ভেতরে বঁটি, দা, লাঠিসোঁটা ও লঙ্কার গুঁড়া প্রস্তুত রেখে এবং নিজেদের প্রস্তুত করে তারা যে-কোনো আক্রমণ প্রতিহত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে জেগে পাহারা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ডলির সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদী চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, আহ্লাদী পিতৃহীন-মাতৃহীন এক নিঃস্ব মেয়ে। মহামারীতে তার বাবা-মা ও ভাইবোন মারা যাওয়ার পর মাসি ও পিসিই তাকে বুকে আগলে বড় করে তোলে। আহ্লাদীর বিয়ে হলেও তার স্বামীর সংসারে চরম নির্যাতন ও লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়। অবশেষে পাষণ্ড স্বামীর নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে মাসি-পিসির সংসারে ফিরে আসে এবং আশ্রয় নেয়।

    উদ্দীপকের ডলিও ঠিক একইভাবে এতিম এবং মামা-মামীর সংসারে আশ্রিত হয়ে বড় হয়েছে। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে সে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় এবং শেষ পর্যন্ত অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আশ্রয়স্থল হিসেবে মামার বাড়িতে ফিরে আসে। এভাবে পিতৃমাতৃহীনতা, স্বামীর সংসারে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং পিতৃগৃহে বা স্বজনের কাছে আশ্রয় নেওয়ার দিক থেকে ডলির সাথে গল্পের আহ্লাদী চরিত্রের পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে 'মাসি-পিসি' গল্পের সম্পূর্ণ বিষয় ফুটে উঠেনি” — মন্তব্যটির পক্ষে আমি যুক্তি পেশ করছি।

    উদ্দীপকে কেবল এতিম ডলির অসহায়ত্ব, যৌতুকের কারণে স্বামীর নির্যাতন এবং মামার বাড়িতে ফিরে এসে আশ্রয় নেওয়ার মতো পারিবারিক সংকটের চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে। এটি মূলত গল্পের আহ্লাদী চরিত্রের পারিবারিক ও বৈবাহিক জীবনের করুণ পরিস্থিতির সঙ্গেই কেবল তুলনীয়।

    কিন্তু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসি-পিসি' গল্পের ব্যাপ্তি ও মূল বক্তব্য কেবল একজন নির্যাতিত নারীর পারিবারিক আশ্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই গল্পের প্রধান দিক হলো দুই প্রান্তিক ও শ্রমজীবী নারীর (মাসি ও পিসি) অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। বিধবা দুই নারী পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শোষণ, দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে নৌকায় তরকারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। উপরন্তু, সমাজের প্রভাবশালী জোতদার গোকুল, দারোগা ও গুন্ডাদলের লোলুপ দৃষ্টি এবং গুন্ডাবাহিনীর আক্রমণের মুখেও তারা আহ্লাদীকে রক্ষায় যে অভূতপূর্ব একতা, সাহস ও সশস্ত্র প্রতিরোধের রূপ দেখিয়েছে, তা উদ্দীপকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

    অতএব, উদ্দীপকে কেবল নির্যাতিতা নারীর অসহায়ত্ব ও আশ্রয়লাভের খণ্ডিত চিত্র প্রকাশ পেয়েছে; কিন্তু 'মাসি-পিসি' গল্পের শ্রমজীবী নারীর আত্মপ্রত্যয়, অর্থনৈতিক সংগ্রাম এবং লম্পট পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ সাহসিক প্রতিরোধ উদ্দীপকে উঠে আসেনি। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে 'মাসি-পিসি' গল্পের সামগ্রিক রূপ ফুটে ওঠেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন