‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

‘ক' নামক বৃহৎ রাষ্ট্রের ঔপনিবেশিক শাসনাধীন 'খ' একটি অঞ্চল। দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার ফলে অঞ্চলটির জনগণ। অত্যাচার-নিপীড়নে পিষ্ঠ হতে থাকে। নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় ও মুক্তির লক্ষ্যে ঐ অঞ্চলের জনগণ একটি সর্বজনীন রাজনৈতিক দল 'গ' গঠন করে। কিন্তু দলটি গঠন করার পর সকল জাতির স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে ব্যর্থ হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে একপেশে নীতি গ্রহণ করে। ফলে রাষ্ট্রের সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘ' নামে আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করে।

  1. ক)

    রাজনৈতিক দল কী?

    (1)
  2. খ)

    ঔপনিবেশিক শাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'গ' নামের রাজনৈতিক দলের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে রাজনৈতিক দল গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তার পটভূমি আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ঘ' রাজনৈতিক দলটির ভূমিকা মূল্যায়ন করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাজনৈতিক দল হলো এমন একটি সুসংগঠিত জনসমষ্টি, যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে নির্দিষ্ট নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য কোনো দুর্বল দেশ বা অঞ্চলের ওপর সামরিক বা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সেখানকার সম্পদ শোষণ ও শাসন পরিচালনা করাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে। ঔপনিবেশিক শাসনে পরাধীন অঞ্চলের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে শাসক রাষ্ট্র তার নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আধিপত্য বজায় রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'গ' রাজনৈতিক দলের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' (প্রতিষ্ঠা: ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ) গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে।

    পটভূমি:
    ব্রিটিশ ভারতের জনগণের ক্ষোভ প্রশমন ও তাদের অভাব-অভিযোগ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ১৮৮৫ সালে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমের উদ্যোগে ‘নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেস’ গঠিত হয়। প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল সব ধর্মের ও বর্ণের ভারতীয়দের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কংগ্রেসের নীতিনির্ধারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু নেতৃত্বের আধিপত্য স্পষ্ট হতে থাকে এবং মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্য ও অধিকার রক্ষার দাবিগুলো যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। উদ্দীপকের 'গ' দলটিও বৃহত্তর ব্রিটিশ ভারতে সর্বজনীন অধিকারের দাবি নিয়ে গঠিত কংগ্রেসেরই প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ঘ' রাজনৈতিক দলটি হলো 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' (১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত)। স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে এই দলটির ভূমিকা ছিল মুখ্য ও অপরিসীম।

    মূল্যায়ন:
    ১. মুসলিম স্বার্থ সংরক্ষণ: কংগ্রেসে মুসলিম স্বার্থের যথাযথ প্রতিফলন না হওয়ায় ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি শুরু থেকেই মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়।

    ২. লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০): মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উত্থাপিত প্রস্তাবটিতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের দাবি জানানো হয়, যা পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি রচনা করে।

    ৩. দ্বিজাতি তত্ত্ব ও পাকিস্তান আন্দোলন: মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'-এর ওপর ভিত্তি করে মুসলিম লীগ হিন্দু ও মুসলিমদের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে তুলে ধরে এবং মুসলিমদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবিকে জনপ্রিয় করে তোলে।

    ৪. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ: ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় মুসলিম লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় পাকিস্তান গঠনের দাবির বৈধতা প্রমাণ করে, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    সুতরাং, মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা থেকে শুরু করে ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন