বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
এইখানে তোর বুজির কবর পরীর মতন মেয়ে, বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।এত আদরের বুজিরে যে তাহারা ভালোবাসিত না মোটে, হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
- ক)(1)
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?
- খ)(2)
'বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় আহ্লাদির দিকে।'- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বুজির সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির অবস্থার তুলনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'মাসি-পিসি' গল্পের মূলভাব কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুড়ো রহমান আহ্লাদির দিকে ছলছল চোখে তাকায় কারণ আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের প্রয়াত মেয়ের কথা মনে পড়ে যায়।
রহমানের একটি মেয়ে ছিল, যে আহ্লাদির বয়সেই শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গিয়েছিল। পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদির বিপন্ন অবস্থা এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের অত্যাচারের কথা ভেবে রহমান নিজের মেয়ের মর্মান্তিক পরিণতির স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত ও শোকাকুল হয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বুজির শ্বশুরবাড়িতে মানসিক নির্যাতনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তার সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের প্রেক্ষাপটের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, আহ্লাদি পিতৃহীন ও এতিম এক মেয়ে। তার স্বামী জগু ছিল চরিত্রহীন ও নিষ্ঠুর। শ্বশুরবাড়িতে আহ্লাদির ওপর শারীরিক ও মানসিক অকথ্য অত্যাচার চালানো হতো; এমনকি তাকে মেরে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। উদ্দীপকেও বুজির অবস্থা অনুরূপ। বুজিকে ভালো বংশে বিয়ে দেওয়া হলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ভালোবাসেনি। গায়ে হাত না তুললেও 'শত যে মারিত ঠোঁটে' অর্থাৎ কথার বিষবাণে তাকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত করা হতো, যার ফলে একসময় তার করুণ মৃত্যু ঘটে।
অতএব, বুজি ও আহ্লাদি উভয়েই শ্বশুরবাড়ির নির্মম নির্যাতন ও অবহেলার শিকার। আহ্লাদি মাসি-পিসির আশ্রয়ে এসে বেঁচে থাকার সুযোগ পেলেও বুজিকে অকালে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'মাসি-পিসি' গল্পের নির্যাতিত নারীজীবনের আংশিক চিত্র ফুটে উঠলেও গল্পের সমগ্র মূলভাব বা সংগ্রামী চেতনা প্রতিফলিত হয়নি।
উদ্দীপকে জসীমউদ্দীনের 'কবর' কবিতার অংশে দেখা যায়, বুজি নামের এক তরুণীকে ভালো ঘর দেখে বিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মানসিক অত্যাচার করে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখানে নারীজীবনের চরম অসহায়ত্ব ও বধূ নির্যাতনের দিকটিই প্রধান হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসি-পিসি' গল্পে শুধু আহ্লাদির ওপর চলা নির্যাতনই প্রধান বিষয় নয়; বরং প্রতিকূল পরিবেশ ও সামাজিক শকুনের বিরুদ্ধে দুই বিধবা নারীর অদম্য লড়াই এবং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামই গল্পের মূলভাব। দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে মাসি ও পিসি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের লোলুপ দৃষ্টি, গোকুল-দারোগার চক্রান্ত এবং জগুর অত্যাচার প্রতিহত করতে একতাবদ্ধ হয়ে বঁটি-দা হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহ্লাদিকে রক্ষা করে। উদ্দীপকে কেবল নারীর নিপীড়িত অবস্থা এবং মৃত্যুর দিকটি আছে, কিন্তু মাসি-পিসির মতো আত্মমর্যাদা রক্ষা ও প্রতিরোধের কোনো চিত্র নেই।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'মাসি-পিসি' গল্পের একটি বিশেষ দিক—বধূর ওপর শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন প্রতিফলিত হলেও, গল্পের মূল সুর অর্থাৎ নারীশক্তির প্রতিরোধ ও অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম প্রতিফলিত হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও