জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

লিমা চিড়িয়াখানার মূল ফটকে জিরাফ ও ডাইনোসর এর ছবি দেখে ভিতরে প্রবেশ করল। সে চিড়িয়াখানায় লম্বা গলাবিশিষ্ট জীবন্ত জিরাফ দেখলেও ডাইনোসর দেখতে পেল না।

  1. ক)

    আর্কিওপটেরিক্স কী?

    (1)
  2. খ)

    মানুষের উপপল্লবকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে লিমার দেখা জীবন্ত প্রাণীটির বিশেষ দৈহিক গঠন বিবর্তনিক আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে লিমার না দেখা প্রাণিটির অস্থিত্ব প্রমাণে জৈব অভিব্যক্তির কোন প্রমাণটি যুক্তিযুক্ত? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আর্কিওপটেরিক্স (Archaeopteryx) হলো সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যধারী একটি জীবাশ্ম প্রাণী, যা জীবজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী যোগসূত্র (Connecting link)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের চোখের ভেতরের কোণায় অবস্থিত অর্ধচন্দ্রাকার লালচে ভাঁজটিকে উপপল্লব বা নিকটিটেটিং পর্দা (Nictitating membrane) বা প্লিকা সেমিলুনারিস বলে।
    অন্যান্য নিম্নশ্রেণীর মেরুদণ্ডী প্রাণীতে (যেমন— ব্যাঙ, পাখি) এটি সক্রিয় ও সঞ্চালনক্ষম থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এটি কোনো কাজ করে না এবং একটি অবিকশিত, ক্ষুদ্র অবশেষ হিসেবে রয়ে গেছে। পূর্বপুরুষে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে কার্যকারিতাহীন হওয়ায় মানুষের উপপল্লবকে নিষ্ক্রিয় বা ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে লিমার দেখা জীবন্ত প্রাণীটি হলো জিরাফ এবং এর বিশেষ দৈহিক গঠনটি হলো তার দীর্ঘ গলা ও লম্বা অগ্রপদ। বিবর্তনিক আলোকে এর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

    ১. ল্যামার্কের মতবাদ (ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র): জ্যঁ ব্যাপটিস্ট দ্য ল্যামার্কের মতে, জিরাফের পূর্বপুরুষরা ছিল খাটো গলা এবং ছোট পা বিশিষ্ট হরিণের মতো প্রাণী। পরবর্তীতে মাটিতে ঘাস কমে গেলে উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার প্রয়োজনে তারা ক্রমাগত গলা ও সামনের পা প্রসারিত করতে থাকে। কোনো অঙ্গের ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে অঙ্গটি সুগঠিত ও শক্তিশালী হয়। অর্জিত এই বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় স্থানান্তরিত হতে হতে বহু প্রজন্ম পর বর্তমানের দীর্ঘ গলাবিশিষ্ট জিরাফের উদ্ভব ঘটে।
    ২. ডারউইনের মতবাদ (প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব): চার্লস ডারউইনের মতে, জিরাফের আদিম জনসংখ্যায় বংশগত প্রকরণের কারণে খাটো, মাঝারি ও লম্বা গলার বিভিন্ন জিরাফ ছিল। জীবন সংগ্রামের অংশ হিসেবে যখন ভূমির খাদ্য ফুরিয়ে যায়, তখন লম্বা গলার জিরাফেরা সহজেই উঁচু গাছের ডালপালা থেকে খাবার সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে (যোগ্যতমের উদ্বর্তন)। অপরদিকে খাটো গলার জিরাফেরা খাদ্যাভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রকৃতি কর্তৃক লম্বা গলার জিরাফেরা নির্বাচিত হয় এবং তাদের বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে বর্তমানের দীর্ঘ গলাযুক্ত জিরাফের বিস্তার ঘটে।

    এভাবেই বিবর্তনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হয়ে জিরাফের বর্তমান শারীরিক রূপ সৃষ্টি হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে লিমার না দেখা প্রাণীটি হলো বিলুপ্ত সরীসৃপ ডাইনোসর। ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত প্রাণীর অস্তিত্ব প্রমাণে জৈব অভিব্যক্তির 'জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ' (Palaeontological evidence) সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। নিচে এর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. জীবাশ্মের প্রত্যক্ষ প্রমাণ: জীবাশ্ম হলো সুদূর অতীতে ভূত্বকের বিভিন্ন স্তরে প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত জীবের সম্পূর্ণ দেহাবশেষ, কঙ্কাল, ছাপ বা শক্ত অংশ। ডাইনোসরের কোনো প্রত্যক্ষ জীবন্ত নমুনা না থাকলেও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পাললিক শিলার স্তরে বিশালাকার ডাইনোসরের ফসিলকৃত কঙ্কাল, দাঁত, ডিম এমনকি পায়ের ছাপ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা তাদের অস্তিত্বের অভ্রান্ত দলিল।
    ২. ভূতাত্ত্বিক সময়কাল ও স্তরবিন্যাস: ভূতাত্ত্বিক সময়পঞ্জি (Geological time scale) অনুযায়ী মেসোজোয়িক মহাযুগে (বিশেষ করে ট্রায়াসিক, জুরাসিক ও ক্রিটেশিয়াস যুগে) ডাইনোসররা পৃথিবীতে রাজত্ব করত। মেসোজোয়িক শিলাস্তরে সংরক্ষিত এদের জীবাশ্ম প্রমাণ করে যে ডাইনোসররা কাল্পনিক কোনো সত্ত্বা নয়, বরং অতীতে পৃথিবীতে বাস্তবিকই টিকে ছিল।
    ৩. ফাইলোজেনি ও বিবর্তনীয় সেতুবন্ধন: ডাইনোসরের কঙ্কালের জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা আধুনিক পাখি ও সরীসৃপদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে এদের কাঠামোগত মিল ও বিবর্তনীয় সম্পর্কের প্রমাণ পেয়েছেন (যেমন আর্কিওপটেরিক্স ও অ্যাভিয়ান ডাইনোসরদের রূপান্তর)।
    ৪. বিলুপ্তির ইতিহাস: ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষভাগে (কে-টি সীমানায়) ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয় ও উল্কাপাতজনিত পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে এদের আকস্মিক বিলুপ্তি ঘটে, যার প্রমাণও জীবাশ্মের স্তরীভূত তথ্যে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

    সুতরাং, জীবাশ্ম হলো প্রাচীন অতীতের অবিসংবাদিত প্রামাণ্য দলিল। তাই ডাইনোসরের বাস্তব অস্তিত্ব প্রমাণে জৈব অভিব্যক্তির জীবাশ্মঘটিত প্রমাণই সর্বাপেক্ষা অকাট্য ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন