যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

সুমন আগুনের রহস্য আবিষ্কারের লক্ষ্যে একদিন একটি অক্সিজেন পূর্ণ পাত্রে একটি মোমবাতি জ্বেলে দেখল যে, তা জ্বলে উঠছে। এরপর সে অক্সিজেন নেই এমন একটি পাত্রে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেখল যে, তা জ্বলে না। এ থেকে সে সিদ্ধান্ত নিল যে, অক্সিজেনের উপস্থিতিই আগুন জ্বলার কারণ।

  1. ক)

    পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির প্রবর্তক কে?

    (1)
  2. খ)

    অন্বয়ই হচ্ছে অন্বয়ী পদ্ধতির ভিত্তি- কথাটি বুঝিয়ে দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুমনের কার্যকলাপে কোন পদ্ধতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়? তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "আরোহ পদ্ধতির যথার্থতা নিরূপণে উক্ত পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে"।- উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির প্রবর্তক হলেন ব্রিটিশ যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অন্বয়' শব্দের অর্থ মিল বা সাদৃশ্য। অন্বয়ী পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো আলোচ্য ঘটনার দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তের মধ্যে কেবল একটি বিষয়ে সাদৃশ্য বা অন্বয় থাকা। যদি কোনো ঘটনার একাধিক দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে কেবল একটি সাধারণ বা অভিন্ন পূর্ববর্তী ও অনুবর্তী অবস্থা বিদ্যমান, তবে সেই সাধারণ বিষয়টিকেই আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য হিসেবে অনুমান করা হয়। এভাবে মিল বা অন্বয়ের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলেই অন্বয়ই হলো অন্বয়ী পদ্ধতির ভিত্তি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমনের কার্যকলাপে মিলের পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির অন্তর্গত 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি'র (Method of Difference) ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    ব্যতিরেকী পদ্ধতির সূত্রানুযায়ী, যদি এমন দুটি দৃষ্টান্ত নেওয়া হয় যার একটিতে আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে এবং অন্যটিতে তা ঘটে না, এবং যদি দেখা যায় যে প্রথম দৃষ্টান্তটিতে একটি নির্দিষ্ট অবস্থা উপস্থিত এবং দ্বিতীয়টিতে তা অনুপস্থিত, আর অন্যান্য সব অবস্থা উভয় দৃষ্টান্তে একই থাকে—তবে যে বিষয়ে দৃষ্টান্ত দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিই আলোচ্য ঘটনার কার্য বা কারণ বা কারণের অপরিহার্য অংশ।

    উদ্দীপকে সুমন আগুনের রহস্য বের করতে দুটি অবস্থা বা দৃষ্টান্ত তৈরি করে। প্রথম দৃষ্টান্তে মোমবাতিটি অক্সিজেনযুক্ত পাত্রে রাখা হয় এবং মোমবাতিটি জ্বলে ওঠে। দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে সব অবস্থা এক রেখে কেবল অক্সিজেন ছাড়া একটি পাত্রে মোমবাতি জ্বালানো হয়, কিন্তু তা জ্বলে না। এখানে কেবল একটিমাত্র বিষয়েই পার্থক্য—অক্সিজেনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি। এর ভিত্তিতে সুমন সিদ্ধান্ত নেয় যে, অক্সিজেনের উপস্থিতিই আগুন জ্বলার কারণ। এটি সরাসরি ব্যতিরেকী পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরোহ পদ্ধতির যথার্থতা নিরূপণে ব্যতিরেকী পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    আরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো বস্তুগত সত্যতা অর্জন করা এবং কার্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কার ও প্রমাণ করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যতিরেকী পদ্ধতির অবদান অপরিসীম, যা নিচের যুক্তিগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:

    ১. নিখুঁত পরীক্ষণের সুযোগ: ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত পরীক্ষণের পদ্ধতি। প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণের অনিশ্চয়তা দূর করে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কেবল একটি অবস্থাকে পরিবর্তন করে অন্য সব অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে এর সাহায্যে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়।

    ২. কার্যকারণ সম্বন্ধের অকাট্য প্রমাণ: এ পদ্ধতির মাধ্যমে কারণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতি উভয়ই যাচাই করা হয়। ফলে অন্যান্য অবান্তর বা আকস্মিক শর্তাদি সহজেই বাতিল হয়ে যায় এবং প্রকৃত কারণটি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হয়।

    ৩. নির্ভরযোগ্যতা ও নিশ্চয়তা: ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিশ্চিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলা হয়। এটি বিজ্ঞানের গবেষণাগারে কারণ আবিষ্কার ও প্রমাণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

    ৪. প্রকৃতির একরূপতা নিশ্চিতকরণ: দুটি পরস্পরবিরোধী দৃষ্টান্তে একটি উপাদানের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে সাধারণীকরণ করায় সিদ্ধান্তের সত্যতা সংশয়মুক্ত হয়।

    অতএব, আরোহের সিদ্ধান্তকে আন্দাজ বা সম্ভাবনার স্তর থেকে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সত্যের স্তরে উন্নীত করতে এবং তার যথার্থতা নিরূপণে ব্যতিরেকী পদ্ধতির ভূমিকা অনন্য ও অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন