‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

আবির যে রাষ্ট্রের বাসিন্দা সেটি ১৯৪৭ সালে আলাদা দু'টি ভুখন্ড নিয়ে গঠিত হয়। রাষ্ট্রটি সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিমাঞ্চলের কায়েমী স্বার্থবাদী মহল পূর্বাঞ্চলের প্রতি ক্রমাগত শোষণ, অবহেলা ও বৈষম্যমূলক নীতির আশ্রয় নেয় । যার ফলে পূর্বাঞ্চলের মানুষের মনে ক্রমাগত অসন্তোষের জন্ম নেয়। এ প্রেক্ষাপটে পূর্বাঞ্চলের এক জনপ্রিয় নেতা একটি দাবি পেশ করেন এবং ঘোষণা করেন উক্ত দাবিই হচ্ছে পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ও মুক্তি সনদ ।

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব কে উপস্থাপন করেন?

    (1)
  2. খ)

    ভাষা আন্দোলন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পূর্ব পাকিস্তানের কোন রাজনৈতিক ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বার উন্মুক্ত করে— বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক (শেরে বাংলা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাষা আন্দোলন বলতে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত ঐতিহাসিক গণআন্দোলনকে বোঝায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তদানের মাধ্যমে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি গড়ে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পূর্ব পাকিস্তানের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' (১৯৬৬)-র মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে দুটি ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল ক্রমাগত পূর্বাঞ্চলকে শোষণ ও বৈষম্য করতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে পূর্বাঞ্চলের এক জনপ্রিয় নেতা জনগণের প্রাণের দাবি ও মুক্তি সনদ ঘোষণা করেন।

    বাস্তবেও ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানকে চরম বৈষম্যের শিকার করে। এই শোষণ ও পরাধীনতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সার্বিক স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে উত্থাপিত এই ছয় দফাকে বাংলার মানুষের 'ম্যাগনাকার্টা' বা 'মুক্তির সনদ' হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনাটি নির্দেশ করে ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনকে। এ কথা যথার্থ যে, ৬ দফা আন্দোলনই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বার উন্মুক্ত করেছিল।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকে পূর্ব পাকিস্তান উপনিবেশের মতো শোষিত হচ্ছিল। রাজনৈতিক অধিকারহীনতা ও চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬ দফা বাঙালি জাতির সামনে নিজস্ব জাতীয়তাবাদী চেতনার বাস্তব রূপরেখা তুলে ধরে। ৬ দফার মাধ্যমেই বাঙালি প্রথম উপলব্ধি করে যে পাকিস্তানি কাঠামোর মধ্যে তাদের মুক্তি সম্ভব নয়, স্বায়ত্তশাসনই তাদের অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র পথ।

    ৬ দফার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে আইয়ুব সরকার দমন-পীড়ন শুরু করে এবং 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়, যা ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ দফার ভিত্তিতে ঐতিহাসিক নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এই নির্বাচনের রায় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মেনে না নিলে বাঙালি একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    অতএব, ৬ দফাই ধাপে ধাপে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে স্বাধীনতার এক দফায় রূপান্তরিত করেছিল। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা অর্থাৎ ৬ দফাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বার উন্মুক্ত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন