বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

11.

(ক) সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যকার কথোপকথন তুলে ধর।অথবা,(খ)প্রদত্ত সংকেত অবলম্বনে 'লোভের পরিণাম' শীর্ষক একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর। গল্প সংকেত: স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ফলের বাগান করে শামীম…………………

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) এর উত্তর:

সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে দুই বন্ধু রাহাত ও তানভীরের মধ্যে কথোপকথন:

রাহাত: শুভ অপরাহ্ন, তানভীর! কী খবর তোর? মনটা খারাপ মনে হচ্ছে?
তানভীর: শুভ অপরাহ্ন, রাহাত। আসলে মন ভালো নেই। আজকের পত্রিকার পাতা খুলতেই দেখলাম ঢাক-সিলেট মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন মারা গেছে।
রাহাত: হ্যাঁ, খবরটি আমিও দেখেছি। অত্যন্ত মর্মান্তিক! আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কত তরতাজা প্রাণ এভাবে সড়কে ঝরে যাচ্ছে!
তানভীর: ঠিক বলেছিস। কিন্তু ভেবে দেখেছিস, এই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো কী?
রাহাত: আমার মতে, চালকদের অসতর্কতা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেক করার অসুস্থ প্রতিযোগিতাই এর প্রধান কারণ। এছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ লাইসেন্সধারী চালকও দায়ী।
তানভীর: তুই একদম সঠিক বলেছিস। এর সাথে পথচারীদের ট্রাফিক নিয়ম না মানা, যেখানে-সেখানে রাস্তা পারাপার এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগও বড় ভূমিকা রাখছে।
রাহাত: এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে তোর মনে হয়?
তানভীর: প্রথমত, চালকদের কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করতে হবে এবং লাইসেন্স প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা দরকার।
রাহাত: তাছাড়া ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা খুব জরুরি।
তানভীর: যথার্থ বলেছিস। সরকার, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সড়ককে নিরাপদ করতে।
রাহাত: ধন্যবাদ তানভীর, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য।
তানভীর: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ, ভালো থেকো।


অথবা,

(খ) এর উত্তর:

লোভের পরিণাম

স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ফলের বাগান করে শামীম। শিক্ষিত ও পরিশ্রমী তরুণ শামীম গ্রামের পতিত জমিতে উন্নত জাতের আম, পেয়ারা ও ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেছিল। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে বাগানটি অল্প দিনেই ফুলে-ফলে ভরে উঠল। প্রথম বছরেই সে ভালো লাভ করল এবং এলাকায় একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেল।

পরের বছর ফলন আরও বেশি হলো। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বড় শহরে ফল সরবরাহের প্রস্তাব আসতে লাগল। শামীমের মনে এবার দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবল লোভ জন্ম নিল। সে ভাবল, স্বাভাবিক উপায়ে ফল পাকতে অপেক্ষা করলে বাজারে চড়া দাম পাওয়া যাবে না। এক অসাধু রাসায়নিক ব্যবসায়ীর পরামর্শে সে গাছে থাকা অবস্থাতেই অপরিপক্ব ফলে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করল, যাতে ফল দ্রুত পেকে আকর্ষণীয় বর্ণ ধারণ করে।

শামীমের বাগান থেকে রাসায়নিকযুক্ত সেই ফলগুলো যখন স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু হলো, তখন তা খেয়ে এলাকার কয়েকজন শিশুসহ বেশ কয়েকজন মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু হলো। ভ্রাম্যমাণ আদালত শামীমের বাগানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ও রাসায়নিকযুক্ত ফল জব্দ করল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শামীমকে হাতেনাতে আটক করে বড় অংকের জরিমানা করল এবং তার বাগানটি সিলগালা করে দিল। এলাকার মানুষের কাছে তার বহু কষ্টে অর্জিত সম্মান এক নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। অতি লোভে পড়ে শামীম তার সাজানো বাগান, অর্থ ও সম্মান—সবই হারাল।

নীতিশিক্ষা: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। লোভ কখনোই মানুষকে কল্যাণের পথে নেয় না, বরং ধ্বংস ডেকে আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন