ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মুনাফ ও ইকরাম দু জন একই গ্রামের বাসিন্দা। দু জনই কৃষিকাজ করেন। ইকরাম নিজের জমি চাষ করার সময় অন্যের জমির সীমানা ঠিক রাখেন না। অপরদিকে মুনাফ জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহের অনুশাসন মেনে চলেন। তিনি নিজের জমি চাষ করেন। বর্তমানে জমি লিজ পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ পদ্ধতি বৈধ কি-না তা জানার জন্য একজন বিজ্ঞ আলেমের নিকট গেলে, তিনি আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন- "হে বিচক্ষণ জ্ঞানীগণ! তোমরা গভীর চিন্তা-ভাবনা ও প্রজ্ঞা অবলম্বন কর।"
- ক)(1)
কিয়াসের রুকুন কয়টি?
- খ)(2)
طلب كتب الخلالِ فَرِيضَةً بَعْدَ الْفَرِيضَةِ এই হাদিসটির অর্থ লিখ ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আল-কুরআনের আয়াতটি ইসলামি শরীয়তের কোন উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ইকরামের উপার্জন কেমন? সমাজজীবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কিয়াসের রুকুন ৪টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাদিসটির অর্থ হলো: "ফরজের পর হালাল জীবিকা অন্বেষণ করা একটি ফরজ (কর্তব্য)।" (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান)
অর্থাৎ সালাত, সিয়াম প্রভৃতি মৌলিক ফরজ ইবাদত পালন করার পর হালাল পন্থায় জীবিকা বা অর্থ উপার্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর একটি অত্যাবশ্যকীয় ধর্মীয় দায়িত্ব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আল-কুরআনের আয়াতটি ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস 'কিয়াস' (বা ইজতিহাদ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে।
ব্যাখ্যা: কুরআনের আয়াত "হে বিচক্ষণ জ্ঞানীগণ! তোমরা গভীর চিন্তা-ভাবনা ও প্রজ্ঞা অবলম্বন কর" (সূরা আল-হাশর: ২)-এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা, বিচার-বিশ্লেষণ ও কিয়াস করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। শরিয়তের কোনো বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে যদি সরাসরি কোনো সুস্পষ্ট বিধান না পাওয়া যায়, তবে বিজ্ঞ আলেম ও মুজতাহিদগণ কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিচার-বুদ্ধি ও যুক্তির মাধ্যমে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সমাধান বের করেন; যাকে 'কিয়াস' বলা হয়। উদ্দীপকে মুনাফ সাহেব সমকালীন জমি লিজ পদ্ধতির বৈধতা জানতে চাওয়ায় আলেম ব্যক্তি এই আয়াতটির মাধ্যমে কিয়াসের আবশ্যকতা ও বৈধতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইকরামের উপার্জন অবৈধ ও হারাম। কারণ তিনি অন্যের জমির সীমানা ভঙ্গ করে বা জমি আত্মসাৎ করে অন্যায়ভাবে উপার্জন করেন।
সমাজজীবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব নিম্নে মূল্যায়ন করা হলো:
১. পারস্পরিক কলহ ও সংঘাত: সীমানা জালিয়াতি ও অন্যের হক হরণ করার কারণে সমাজে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে তীব্র বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
২. সামাজিক অশান্তি ও অনাস্থা: এ ধরনের অন্যায় কার্যক্রমের ফলে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং গোটা সমাজে অস্থিতিশীলতা নেমে আসে।
৩. অন্যায়ের প্রসার: অবৈধ উপার্জনকে প্রশ্রয় দিলে সমাজে জুলুম, অবিচার ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটে, যা সাধারণ ও দুর্বল কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৪. ইবাদত কবুল না হওয়া ও পরকালীন শাস্তি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত জমিও আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সাত তবক জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি হারাম উপার্জনের কারণে কোনো দোয়া ও ইবাদত কবুল হয় না।সুতরাং, ইকরামের এহেন অবৈধ উপার্জন কেবল তার নিজের আখিরাতই ধ্বংস করে না, বরং গোটা সমাজজীবনে মারাত্মক অবক্ষয় ও অস্থিরতা ডেকে আনে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও