ভূগোল ২য় পত্র • মানব ভূগোল • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বললেন যে, ভূগোলের প্রধান দু'টি শাখার মধ্যে একটি শাখা মানব সমাজ ও পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্ক, অভিগমন, বসতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করে। তিনি আরও বললেন - ভূগোলের এ শাখা অধ্যয়ন মানবজীবনের জন্য অতীব প্রয়োজন।
- ক)(1)
অভিগমনের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
কাম্য জনসংখ্যা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শাখাটির ধারণাসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ বাক্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস বা জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করাকে অভিগমন (Migration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের সাথে জনসংখ্যার যে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থাকে নির্দেশ করে, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। এই অবস্থায় দেশের প্রাপ্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। জনসংখ্যা এর চেয়ে কম হলে সম্পদ অব্যবহৃত থাকে এবং বেশি হলে মাথাপিছু আয় হ্রাস পায় ও জীবনযাত্রার মান কমে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ভূগোলের প্রধান শাখাটি হলো 'মানব ভূগোল' (Human Geography)।
মানব ভূগোল মূলত ভূপৃষ্ঠে মানুষের কর্মকাণ্ড, তাদের সংস্কৃতি, সমাজ এবং পরিবেশের সাথে তাদের আন্তঃসম্পর্ক পর্যালোচনা করে। এর মূল ধারণাসমূহ হলো:
১. পরিবেশের সাথে অভিযোজন: মানুষ কীভাবে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে ব্যবহার ও পরিবর্তন করে নিজের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
২. জনসংখ্যা ও জনমিতি: জনসংখ্যার বৃদ্ধি, বণ্টন, ঘনত্ব, জন্ম-মৃত্যুর হার এবং অভিগমন সংক্রান্ত পর্যালোচনা।
৩. অর্থনৈতিক কার্যাবলি: মানুষের জীবিকা নির্বাহের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, যেমন—কৃষি, শিল্প, খনিজ উত্তোলন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা।
৪. মানব বসতি: গ্রামীণ ও নগর বসতির বিন্যাস, ধরন এবং বিবর্তন আলোচনা।
সুতরাং, মানব ভূগোলের মূল ক্ষেত্রই হলো মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্থানিক কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো—"ভূগোলের এ শাখা অধ্যয়ন মানবজীবনের জন্য অতীব প্রয়োজন"। মানব ভূগোল পাঠের তাৎপর্য নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার: মানব ভূগোল অধ্যয়নের মাধ্যমে জানা যায় একটি অঞ্চলের সম্পদের পরিমাণ কতটুকু এবং কীভাবে তা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে ব্যবহার করা যায়।
২. জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান ও পরিকল্পনা: জনসংখ্যার ঘনত্ব, অভিগমন এবং জনমিতিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হয়।
৩. পরিবেশ দূষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলা: মানুষের কোন কর্মকাণ্ড পরিবেশের ক্ষতি করছে তা চিহ্নিত করে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নে এ শাখা জ্ঞান প্রদান করে।
৪. মানব বসতি ও নগরায়ণ ব্যবস্থাপনা: অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ করে আধুনিক ও স্বাস্থ্যকর গ্রামীণ ও নগর বসতি গড়ে তোলার জন্য মানব ভূগোলের জ্ঞান অপরিহার্য।
৫. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মানব ভূগোল গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।অতএব, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন এবং সমাজকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য মানব ভূগোল অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও