মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মানবদেহে মেরু স্নায়ুর সংখ্যা কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    থ্যালামাসকে রিলে স্টেশন বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    সংবেদী অঞ্চল 'A' ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গুরু মস্তিষ্কের 'B' ও 'C' অঞ্চলের কাজের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবদেহে মেরু স্নায়ুর (স্পাইনাল নার্ভ) সংখ্যা ৩১ জোড়া বা ৬২টি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    থ্যালামাসকে সংবেদনীয় 'রিলে স্টেশন' বলা হয়, কারণ ঘ্রাণ সংবেদন ছাড়া অন্যান্য সব সংবেদনশীল উদ্দীপনা (যেমন- দৃষ্টি, শ্রবণ, স্পর্শ ইত্যাদি) সংবেদী স্নায়ুর মাধ্যমে প্রথমে থ্যালামাসে এসে পৌঁছায়। থ্যালামাস সেগুলোকে বাছাই, পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করে সেরেব্রাল কর্টেক্স বা গুরুমস্তিষ্কের নির্দিষ্ট সংবেদী অঞ্চলে প্রেরণ করে। অর্থাৎ এটি বিভিন্ন প্রান্তীয় স্নায়ু থেকে আসা বার্তা কর্টেক্সে প্রেরণে মধ্যস্থতাকারী কেন্দ্র হিসেবে কাজ করায় একে রিলে স্টেশন বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে গুরুমস্তিষ্কের সংবেদী অঞ্চলকে তিনটি ভাগে দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে শির নিম্ন অঞ্চল (শ্রবণ অঞ্চল) এবং পশ্চাৎ অঞ্চল (দৃষ্টি অঞ্চল) উল্লেখ আছে। অতএব, ছকের 'A' অঞ্চলটি হলো ত্বকীয় সংবেদনশীল অঞ্চল বা দেহ-সংবেদনশীল অঞ্চল (Somatosensory Cortex), যা মস্তিষ্কের মধ্যমণ্ডল বা প্যারাইটাল লোবে অবস্থিত।

    ব্যাখ্যা:
    ১. অবস্থান: এটি গুরুমস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় খাঁজের (Central Sulcus) ঠিক পেছনে মধ্যমণ্ডলে (Parietal Lobe) অবস্থিত।
    ২. কাজ: দেহের ত্বক, মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি ইত্যাদি থেকে আসা স্পর্শ, চাপ, উত্তাপ, শৈত্য এবং যন্ত্রণার অনুভূতিগুলো এই অঞ্চলে এসে গৃহীত হয়।
    ৩. গুরুত্ব: এই অঞ্চলের মাধ্যমে শরীরের কোন অংশে স্পর্শ করা হচ্ছে বা ব্যথা অনুভূত হচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর (যেমন- ঠোঁট, আঙুল) জন্য এই অঞ্চলের অধিক অংশ বরাদ্দ থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে গুরুমস্তিষ্কের তিনটি প্রধান অঞ্চল দেখানো হয়েছে। একটি সংবেদী অঞ্চল (Sensory Area), সুতরাং অপর দুটি অঞ্চল 'B' ও 'C' হলো যথাক্রমে চালক অঞ্চল (Motor Area) এবং অনুষঙ্গ বা সংযোগকারী অঞ্চল (Association Area)। নিচে এদের কাজের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কাজের প্রকৃতি:

    • চালক অঞ্চল (B): এটি মূলত কেন্দ্রীয় খাঁজের ঠিক সামনে সম্মুখমণ্ডলে (Frontal Lobe) অবস্থিত। এর মূল কাজ হলো মানবদেহের ঐচ্ছিক পেশির সঞ্চালন ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা। হাত, পা, মুখমণ্ডল, জিহ্বা প্রভৃতির ঐচ্ছিক নড়াচড়া এখান থেকে পরিচালিত হয়।
    • অনুষঙ্গ অঞ্চল (C): গুরুমস্তিষ্কের যে অঞ্চলগুলো সরাসরি চালক বা সংবেদী কাজের সাথে যুক্ত নয়, সেগুলো হলো অনুষঙ্গ অঞ্চল। এটি বিভিন্ন সংবেদী অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে একত্র ও সমন্বয় করে।

    ২. উচ্চতর মানসিক প্রক্রিয়া:

    • চালক অঞ্চল: এটি উচ্চতর চিন্তার সমন্বয় করে সরাসরি পেশীয় প্রতিক্রিয়ায় রূপদান করে (যেমন কথা বলা বা লেখার জন্য প্রয়োজনীয় পেশিসঞ্চালন)। ব্রোকার অঞ্চল এখানে অবস্থিত যা বাকশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে।
    • অনুষঙ্গ অঞ্চল: স্মৃতি, শিখন, বিচারবুদ্ধি, যুক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা সমাধান এবং মনোযোগের মতো জটিল মানসিক প্রক্রিয়াগুলো অনুষঙ্গ অঞ্চলে সম্পন্ন হয়। এটি সংবেদন ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে অভিজ্ঞতার অর্থ প্রকাশ করে।

    ৩. ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব:

    • চালক অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে: শরীরের সংশ্লিষ্ট অংশের ঐচ্ছিক পেশি পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralysis) হতে পারে বা পেশিসঞ্চালন রহিত হয়।
    • অনুষঙ্গ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে: পেশি বা সংবেদী অঙ্গ ঠিক থাকলেও ভাষার বোধগম্যতা লোপ পায় (অ্যাফেসিয়া), চিন্তাশক্তি ব্যাহত হয় এবং স্মৃতিভ্রম ঘটতে পারে।

    পরিশেষে, চালক অঞ্চল প্রধানত গতিমূলক ও সঞ্চালনমূলক কাজ পরিচালনা করে এবং অনুষঙ্গ অঞ্চল মানসিক, ধারণাগত ও তথ্য সমন্বয়ের কাজ করে মানব আচরণকে অর্থবহ করে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন