বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.
(ক) যানজটের ভোগান্তি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।অথবা,(খ) শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদে গল্প রচনা কর:ঝড়ের রাত। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। পিয়ালের মন খুবই অস্থির। রাত আনুমানিক একটা। হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ। অজানা আতঙ্কে পিয়াল…..
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) যানজটের ভোগান্তি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: একটি বাসস্ট্যান্ড
চরিত্র: রাহাত ও তানভীর
রাহাত: কিরে তানভীর! তুই এত ঘেমে গেছিস কেন? কোথা থেকে আসলি?
তানভীর: আর বলিস না দোস্ত! ফার্মগেট থেকে মিরপুর আসতে স্বাভাবিকভাবে আধা ঘণ্টা লাগার কথা, সেখানে আজ আড়াই ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হয়েছে। তীব্র যানজট!
রাহাত: সত্যি, যানজট এখন আমাদের নিত্যদিনের নরক-যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের প্রতিটি রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
তানভীর: শুধু কি সময় নষ্ট? ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির হর্ন, ধোঁয়া আর স্থির দাঁড়িয়ে থাকা—এতে মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকে থাকছে।
রাহাত: ঠিক তাই। এর ফলে অর্থনৈতিকভাবেও দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের কর্মস্পৃহাও নষ্ট হয়ে যায় দিনের শুরুতেই।
তানভীর: কিন্তু এর মূল কারণটা কী বল তো?
রাহাত: অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপ্রতুল রাস্তাঘাট, ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা এবং রাস্তায় মাত্রাতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্যই এর অন্যতম কারণ। তাছাড়া ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানোও পরিস্থিতি খারাপ করে তোলে।
তানভীর: তাহলে এ সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব?
রাহাত: প্রথমত, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে, যেমন—মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক আরও বাড়ানো এবং আধুনিক বাস রুট রেশনালাইজেশন করা। দ্বিতীয়ত, ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ট্রাফিক সিস্টেম পুরোপুরি ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করা দরকার।
তানভীর: খুব সঠিক কথা বলেছিস। সেই সাথে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
রাহাত: একদম ঠিক। সরকার এবং জনগণ একযোগে কাজ করলেই কেবল আমরা এই দুঃসহ যানজট থেকে মুক্তি পেতে পারি।
তানভীর: একমত। চল, এখন ক্লাসে যাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
রাহাত: হ্যাঁ, চল।
অথবা,
(খ) খুদে গল্প:
অচেনা অতিথি ও এক ঝড়ের রাত
ঝড়ের রাত। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে জানালার কাচগুলো তীব্রভাবে কেঁপে উঠছে। পিয়ালের মন খুবই অস্থির। বাবা-মা জরুরি কাজে গ্রামের বাড়ি গেছেন, বাড়িতে পিয়াল একদম একা। রাত আনুমানিক একটা। হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ। অজানা আতঙ্কে পিয়ালের বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল।
এমন গভীর রাতে, এই দুর্যোগময় আবহাওয়ায় কে আসতে পারে? পিয়াল ধীরপায়ে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। দরজার আই-হোল (ম্যাজিক আই) দিয়ে বাইরে তাকানোর চেষ্টা করল, কিন্তু বাইরে নিকষ অন্ধকার। সে মৃদু ও কাঁপাকাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “কে? কে ওখানে?”
বাইরে থেকে কোনো উত্তর এলো না, কেবল বৃষ্টির গর্জন ছাড়া। পিয়াল ভাবল হয়তো বাতাসের দোলাতেই বেলের সুইচে কোনো শর্টসার্কিট হয়েছে। সে ফিরে আসার জন্য পা বাড়াতেই আবার বেল বেজে উঠল—ট্রিং... ট্রিং!
এবার পিয়াল সাহসে ভর করে একটু জোরালো কণ্ঠে বলল, “বাইরে কে? পরিচয় দিন, নইলে আমি পুলিশে খবর দেব!”
এবার এক ক্ষীণ ও দুর্বল কণ্ঠের আওয়াজ ভেসে এলো, “বাবা, একটু দরজাটা খোলো... আমি বিপদে পড়েছি।” কণ্ঠটি অত্যন্ত ক্লান্ত ও বয়োবৃদ্ধ এক নারীর। পিয়াল সাবধানে দরজার চেইন লক লাগিয়ে সামান্য একটু ফাঁক করে দেখল। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন এক থরথর করে কাঁপতে থাকা বৃদ্ধা, যার পরনের কাপড় সম্পূর্ণ ভেজা। কোলে একটি ছোট শিশু, শীতে যার ঠোঁট নীল হয়ে গেছে।
পিয়ালের মনের সব ভয় এক নিমেষে উবে গেল। মানবিকতা জেগে উঠল অন্তরে। সে দ্রুত দরজা পুরোটা খুলে দিল এবং তাদের ভেতরে নিয়ে এলো। জানা গেল, দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্যোগে পড়ে পথ হারিয়ে এই ফ্ল্যাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। পরে কোনো উপায় না দেখে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আলো দেখে বেল বাজিয়েছেন।
পিয়াল দ্রুত শুকনো কাপড় ও গরম তোয়ালে এনে দিল। রান্নাঘর থেকে গরম দুধ ও বিস্কুট এনে শিশুটি ও বৃদ্ধার মুখে তুলে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যে শিশুটি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল। বৃদ্ধা কৃতজ্ঞতার অশ্রুসজল চোখে পিয়ালের মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন। পিয়ালের বুকটা এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে গেল। ঝড়ের রাতের সেই অজানা আতঙ্ক তখন পরম আত্মতৃপ্তিতে রূপ নিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও