পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা কী হবে তা নিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সমগ্র বাঙালি জাতিতে একতাবদ্ধ করেছিল। সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ আরও অনেকে শাহাদত বরণ করেন। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা আন্দোলন তথা মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।
- ক)(1)
জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে?
- খ)(2)
"জাতীয়তা একটি মানসিক সত্তা এবং এক প্রকার সজীব মানুসিকতা"- উক্তিটি কার?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে কোন উপাদানটি কাজ করেছে? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটি ছাড়া জাতি গঠনে আর কী কী উপাদান রয়েছে? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বা জনক হলেন নিকোলো মেকিয়াভেলি (Niccolò Machiavelli)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"জাতীয়তা একটি মানসিক সত্তা এবং এক প্রকার সজীব মানসিকতা"— উক্তিটি প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর্নেস্ট রেনান (Ernest Renan)-এর।
তিনি মনে করেন যে, জাতীয়তা মূলত কোনো বাহ্যিক উপাদানের চেয়েও এক গভীর মানসিক অনুভূতি ও চেতনার ওপর নির্ভরশীল। অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের ঐক্যের অনুভূতিই জাতীয়তার মূল ভিত্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হিসেবে 'ভাষাগত ঐক্য' কাজ করেছে।
ভাষাগত ঐক্য জাতীয়তাবোধের অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী মাধ্যম। একই ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করার ফলে মানুষের মধ্যে সহজে আত্মিক যোগাযোগ ও ঐক্যের সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৯৫২ সালে ভাষার দাবিতে সালাম, বরকত প্রমুখের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করে। এই রক্তক্ষয়ী রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয় এবং এই ভাষাগত সংহতি পরবর্তীতে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষাগত উপাদানটি ছাড়া জাতি গঠনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে জনগণের মধ্যে গভীর মৈত্রী ও একাত্মবোধ গড়ে ওঠে।
২. বংশগত বা রক্তগত ঐক্য: একই নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বা রক্তের সম্পর্ক অনেক সময় মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ঐক্যবোধ সৃষ্টি করে।
৩. ধর্মীয় ঐক্য: সাধারণ ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংহতি তৈরি হয়।
৪. ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্য: সাধারণ অতীত ঐতিহ্য, সুখ-দুঃখের স্মৃতি, উৎসব এবং অভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে একসূত্রে বাঁধে।
৫. অর্থনৈতিক স্বার্থের ঐক্য: অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধা লাভের আকাঙ্ক্ষা জাতি গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৬. রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ঐক্য: একটি অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে লড়াই ও স্বাধীন জীবনযাপনের ইচ্ছা জাতি গঠনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।সুতরাং, ভাষাগত ঐক্যের পাশাপাশি উপরোক্ত উপাদানসমূহের সমন্বয়েই মূলত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও