যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ : ইগল, চিল, শকুন ইত্যাদি শিকারি পাখিরই ঠোঁট শক্ত। অতএব সব শিকারি পাখির ঠোঁটই শক্ত।দৃশ্যকল্প-২ : আবির হোসেন ও ইফফাত হোসেন উভয়ই সরকারি চাকরি করেন। আবির হোসেন অবসর গ্রহণের পর পেনশনের সুবিধা পেয়েছেন। সুতরাং ইফফাত হোসেনও পেনশনের সুবিধা পাবেন।দৃশ্যকল্প-৩ : মানিক সাহেব ও হানিফ সাহেব উভয়ই দীর্ঘ পঁচিশ বছরেরও অধিক সময় আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। উভয়ই ধার্মিক ও সৎ জীবন-যাপন করেন। সম্প্রতি মানিক সাহেব দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সুতরাং হানিফ সাহেবও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হবেন।
- ক)(1)
আরোহাত্মক উল্লম্ফন কাকে বলে ?
- খ)(2)
ঘটনা সংযোজনকে কেন অপ্রকৃত আরোহ বলা হয় ? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকৃত না অপ্রকৃত আরোহ প্রতিফলিত হয়েছে ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর পার্থক্য উল্লেখপূর্বক কোনটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম ? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে, বিশেষ থেকে সার্বিকে অথবা 'কিছু' থেকে 'সকল'-এ উত্তরণের মানসিক প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপকে আরোহাত্মক উল্লম্ফন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ আরোহাত্মক উল্লম্ফন না থাকার কারণে ঘটনা সংযোজনকে অপ্রকৃত আরোহ বলা হয়।
ঘটনা সংযোজনে মূলত কয়েকটি প্রত্যক্ষ বা পরীক্ষিত ঘটনাকে একটি সাধারণ ধারণার অধীনে একত্রে গ্রথিত করা হয়। এতে কেবল জানা দৃষ্টান্তগুলোকে একত্রিত করে বর্ণনা করা হয়, কিন্তু জানা থেকে অজানায় যাওয়ার কোনো মানসিক পদক্ষেপ থাকে না। আরোহাত্মক উল্লম্ফন না থাকায় যুক্তিবিদ মিল একে প্রকৃত আরোহ না বলে অপ্রকৃত আরোহ হিসেবে গণ্য করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ 'প্রকৃত আরোহ' (বিশেষভাবে অবৈজ্ঞানিক আরোহ) প্রতিফলিত হয়েছে।
যে আরোহ অনুমানে আরোহের প্রধান লক্ষণ অর্থাৎ আরোহাত্মক উল্লম্ফন বিদ্যমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। প্রকৃত আরোহে জানা থেকে অজানায়, কিছু থেকে সকলে উপনীত হওয়ার ঝুঁকি গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ ইগল, চিল, শকুন প্রভৃতি কিছু শিকারি পাখির ঠোঁট শক্ত হওয়া প্রত্যক্ষ করে সকল শিকারি পাখির ঠোঁট শক্ত হওয়ার সাধারণ সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। এখানে প্রত্যক্ষকৃত কিছু দৃষ্টান্ত থেকে অপ্রত্যক্ষকৃত সকল দৃষ্টান্তে উত্তরণ ঘটেছে, অর্থাৎ আরোহাত্মক উল্লম্ফন রয়েছে। তাই দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকৃত আরোহ প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ 'সাধু সাদৃশ্যানুমান' এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ 'অসাধু সাদৃশ্যানুমান' নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের পার্থক্য এবং সিদ্ধান্ত প্রদানের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর পার্থক্য:
ক. দৃশ্যকল্প-২ এ আবির হোসেন ও ইফফাত হোসেনের মধ্যে সরকারি চাকরি করার যে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে, তার ভিত্তিতে পেনশনের সিদ্ধান্তের অনুমান করা হয়েছে। অন্যদিকে দৃশ্যকল্প-৩ এ মানিক সাহেব ও হানিফ সাহেবের দীর্ঘদিনের পেশা ও সৎ জীবনের সাথে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার কোনো প্রাসঙ্গিক বা অর্থপূর্ণ সাদৃশ্য নেই।
খ. দৃশ্যকল্প-২ এ সাদৃশ্যের বিষয়গুলো অনুমিত বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু দৃশ্যকল্প-৩ এ সাদৃশ্যের বিষয়গুলো বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক।২. নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষমতার বিশ্লেষণ:
সাদৃশ্যানুমান স্বভাবগতভাবেই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে, তা কখনো শতভাগ নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেয় না। তবে সাধু সাদৃশ্যানুমানের (দৃশ্যকল্প-২) সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা সর্বোচ্চ স্তরের এবং তা বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকর বা নিশ্চিতের কাছাকাছি। সরকারি চাকরির সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আবির হোসেনের মতো ইফফাত হোসেনও পেনশন পাবেন— এটি একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নীতির আওতাভুক্ত হওয়ায় নিশ্চিত সিদ্ধান্তের রূপ ধারণ করে। অপরপক্ষে, দৃশ্যকল্প-৩ অসাধু সাদৃশ্যানুমান হওয়ায় এর কোনো বৈজ্ঞানিক বা বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বা অনিশ্চিত।অতএব, দৃশ্যকল্পদ্বয়ের মধ্যে দৃশ্যকল্প-২ তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও