বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
অন্ধকূপ হত্যা কী?
- খ)(2)
'আলীনগর সন্ধি' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবই এর কোন যুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠেছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'উক্ত যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের ফলেই বাংলা তথা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়'-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অন্ধকূপ হত্যা হলো ১৭৫৬ সালে ঘটেছে বলে বর্ণিত ঘটনা, যাতে বলা হয় কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ছোট একটি কক্ষে বহু ইংরেজ বন্দিকে আটকে রাখা হলে অনেকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।
- খ)
আলীনগর সন্ধি ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংরেজ কর্মকর্তা রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি। নবাব কলকাতা দখল করে এর নাম দিয়েছিলেন আলীনগর। ইংরেজরা কলকাতা পুনরুদ্ধার করলে এই সন্ধিতে কোম্পানির আগের বাণিজ্যিক সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া হয়, ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি আসে এবং কলকাতা সুরক্ষিত করার অধিকার মেনে নেওয়া হয়। এতে কোম্পানির অবস্থান শক্ত হয়।
- গ)
উদ্দীপকের চিত্রটি ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের চিত্র বলে ধরা যায়।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে যুদ্ধ হয়। নবাবের সেনাপতি মীর জাফর ষড়যন্ত্র করে যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেননি এবং নবাবের সৈন্যদের একটি অংশ লড়াই করেনি। ফলে অল্প সময়েই নবাব পরাজিত হন।
- ঘ)
পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের ফলে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়।
১. মীর জাফর নামে নবাব হলেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল কোম্পানির হাতে; পরে ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতে ইংরেজ শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়।
২. কোম্পানি বাংলার সম্পদ ও বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থনৈতিক শোষণ শুরু করে।
৩. সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার সর্বশেষ স্বাধীন নবাব; তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই শতাব্দীর পরাধীনতার সূচনা হয়।সুতরাং, পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ই বাংলা তথা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার সূচনা করেছিল— মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও