ইতিহাস ১ম পত্র • ব্রিটিশ শাসন ও প্রতিরোধ আন্দোলন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব 'ক' একজন প্রতিভাবান ও সাম্রাজ্যবাদী শাসক। তিনি প্রতিবেশি ছোট ছোট রাজ্যগুলোকে একত্রিত করে একটি বৃহৎ রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রতিবেশি ছোট ছোট রাজ্যগুলোও তার সামরিক সহায়তা লাভের প্রত্যাশী ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিবেশি ছোট রাজ্যগুলোকে কিছু শর্তসাপেক্ষে সামরিক সাহায্য দিয়ে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
সতীদাহ প্রথা কে বিলোপ করেন?
- খ)(2)
রেগুলেটিং অ্যাক্ট কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জনাব 'ক' এর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের গৃহীত নীতির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত নীতি ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে— তুমি কি একমত? সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৭৭৩ সালে পাস হওয়া 'রেগুলেটিং অ্যাক্ট' (নিয়ামক আইন) হলো ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসন ও কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করার জন্য প্রণীত একটি আইন। এর মাধ্যমে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয় এবং একটি সুপ্রিম কাউন্সিল ও কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর গৃহীত নীতির সাথে পাঠ্যবইয়ের লর্ড ওয়েলেসলির গৃহীত 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' (Subsidiary Alliance)-র সাদৃশ্য রয়েছে।
লর্ড ওয়েলেসলি ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' প্রবর্তন করেন। এই নীতির মূল কথা ছিল— কোনো ভারতীয় দেশীয় রাজ্য কোম্পানির সামরিক সাহায্য ও নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে তার বিনিময়ে ওই রাজ্যে একদল ইংরেজ সৈন্য মোতায়েন রাখতে হবে এবং তাদের ব্যয়নির্বাহের জন্য অর্থ বা রাজ্যের একাংশ ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো শক্তির সাথে যুদ্ধ বা চুক্তি করা যেত না।
উদ্দীপকের জনাব 'ক' যেমন ছোট ছোট প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে শর্তসাপেক্ষে সামরিক নিরাপত্তা দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন, লর্ড ওয়েলেসলিও একইভাবে দেশীয় রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে আনেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি একমত যে লর্ড ওয়েলেসলির অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
এই নীতির মাধ্যমে ইংরেজরা দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর সরাসরি যুদ্ধ না করেই তাদের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক শক্তি কেড়ে নিতে সক্ষম হয়। হায়দরাবাদের নিজাম সর্বপ্রথম এ নীতি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অযোধ্যার নবাব, পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও, মারাঠা নেতা ভোঁসলে ও সিন্ধিয়াসহ বহু শাসক এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। ফলে এই রাজ্যগুলোর নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ইংরেজদের করায়ত্ত হয়।
এছাড়া এ নীতির ফলে কোম্পানির নিজের খরচে কোনো সৈন্যবাহিনী লালন-পালন করতে হয়নি; ভারতীয় শাসকদের অর্থেই ইংরেজরা একটি বিশাল সুসজ্জিত বাহিনী গড়ে তোলে। কোনো রাজ্য সৈন্যবাহিনীর খরচ দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ভূখণ্ডের অংশবিশেষ কোম্পানি দখল করে নিত। এর ফলে ব্রিটিশরা নিজ সীমান্তে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয় এবং ভারতীয় রাজশক্তিগুলোর পারস্পরিক ঐক্য ধ্বংস হয়ে যায়। পরিশেষে বলা যায়, অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কূটকৌশলগতভাবে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ আধিপত্য সুসংহত ও সাম্রাজ্য বিস্তারে এক মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও