বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘ প্রায় ২'শ বছরের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবিতা লিখে প্রতিবাদ করেছেন। 'বিদ্রোহী' কবিতা লেখার জন্য কবিকে রাজবন্দি হয়ে এক জেল থেকে অন্য জেলে স্থানান্তর করে মানসিক কষ্ট দিয়েছে ব্রিটিশরা। প্রতিবাদে কবির জেলের আমরণ অনশন ভাঙতে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেষ্টা করেন। এত কিছু পরও কবি দমে যাননি। জেলের সেলে লোহার গরাদে তাল বাজিয়ে অন্য বন্দিদের নিয়ে গাইতেন, তাঁরই লেখা বিখ্যাত কবিতাটি-"কারার ঐ লৌহ কপাট,ভেঙ্গে ফেল করলে লোপাট ......।।"
- ক)(1)
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর গুলিবর্ষণের জন্য দায়ী কে?
- খ)(2)
“বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করে উপায় নাই।”- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলাম ও 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার লেখক শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী চেতনার তুলনামূলক আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের কাজী নজরুল এবং 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার লেখক শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই সূত্রে গাঁথা।”- মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর গুলিবর্ষণের জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন দায়ী ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনগণের তীব্র অসন্তোষ, ভাষার দাবিতে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ এবং তৎকালীন মুসলিম লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও বাংলা ভাষার দাবির যৌক্তিকতা অনুভূত হওয়ায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করে কোনো উপায় ছিল না।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধু যখন ফরিদপুর জেলে অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তাঁর সাথে দেখা করতে আসা মহিউদ্দিনসহ অন্যান্যদের মাধ্যমে এবং সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তের বিনিময়ে যে ভাষা আন্দোলন সূচিত হয়েছিল, তা পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সবাই বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই জনদাবি আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়; তাই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই হবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলাম এবং 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার লেখক শেখ মুজিবুর রহমান উভয়েই ছিলেন অন্যায়, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী চেতনার প্রতীক।
কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ব্রিটিশদের শোষণ-পীড়নের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠে কবিতা লেখার দায়ে তিনি কারারুদ্ধ হন এবং জেলে নানা মানসিক নির্যাতন সহ্য করেও অনশন ধর্মঘটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। শত নিপীড়নের মাঝেও তিনি 'কারার ঐ লৌহ কপাট' গানের মধ্য দিয়ে বন্দিদের উদ্বুদ্ধ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখেন।
অপরদিকে, 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের অন্যায় বন্দিদশা ও বাংলা ভাষার ওপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বিনা বিচারে দীর্ঘকাল জেলে বন্দি রাখার প্রতিবাদে তিনি জেলখানায় আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি নিজের আদর্শ ও রাজনৈতিক নীতি থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি।
তুলনামূলকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, নজরুল সাহিত্য ও সংগীতকে প্রতিবাদের মাধ্যম বানিয়ে রাজরোষের শিকার হয়ে অনশন করেছিলেন, আর শেখ মুজিবুর রহমান প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনদাবি আদায়ে জেল-জুলুম উপেক্ষা করে অনশনব্রত পালন করেছিলেন। মাধ্যম ভিন্ন হলেও উভয়ের সংগ্রামী চেতনা ছিল এক—অন্যায় ও শোষণের কাছে মাথা নত না করার বলিষ্ঠ অঙ্গীকার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের কাজী নজরুল এবং 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার লেখক শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই সূত্রে গাঁথা”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সংগ্রামের প্রেক্ষাপট ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশদের প্রায় দুই শত বছরের পরাধীনতা ও ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ। নজরুল চেয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজশক্তিকে উৎখাত করে ভারতবর্ষের মানুষের সার্বিক মুক্তি নিশ্চিত করতে। এজন্য তিনি রাজবন্দি হয়ে জেলের নিগ্রহ সহ্য করেছেন, অনশন করেছেন এবং বিপ্লবী গানের মধ্য দিয়ে জাতিকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে, 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় শেখ মুজিবুর রহমানের আন্দোলনের পটভূমি ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন। বাঙালির মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়া এবং বিনা বিচারে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর জুলুমের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু প্রতিবাদী অবস্থান নেন। ফরিদপুর জেলে স্থানান্তরিত হওয়ার পর তিনি টানা অনশন করে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও বাংলা ভাষার মর্যাদা ও জনগণের রাজনৈতিক মুক্তির দাবিতে অটল থাকেন।
সুতরাং দেখা যায়, নজরুল লড়াই করেছেন ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে আর বঙ্গবন্ধু লড়েছেন পাকিস্তানি নব্য-উপনিবেশবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সময়কাল ভিন্ন হলেও তাঁদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল এক ও অভিন্ন—জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধ এবং শোষিত মানুষের সার্বিক মুক্তি। তাই বলা যায়, উভয়ের আদর্শিক চেতনা ও মানবমুক্তির সংগ্রাম একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও