সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা "ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের প্রতি কমলগঞ্জ গ্রামের মানুষের মনোভাব" এই বিষয়ে গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিল। এ পর্যায়ে শিক্ষাথীরা একটি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করে গবেষণা শেষ করল।
- ক)(1)
অগাস্ট কোঁতের ত্রয়ম্ভর সূত্রের প্রথম স্তরটির নাম কী?
- খ)(2)
'আসাবিয়া' কী? বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা গবেষণার ক্ষেত্রে কী ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শিক্ষার্থীরা গবেষণা কার্যে যে পর্যায়গুলো প্রয়োগ করেছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অগাস্ট কোঁতের মানবজ্ঞানের ত্রয়স্তর সূত্রের প্রথম স্তরটির নাম ধর্মতাত্ত্বিক স্তর (Theological stage)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আসাবিয়া' (Asabiyyah) হলো সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন কর্তৃক প্রবর্তিত একটি প্রত্যয়, যার অর্থ দলগত সংহতি বা সামাজিক সংহতি (Social Solidarity)। রক্তসম্পর্ক, গোত্রীয় আনুগত্য এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে ঐক্যবোধ, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে ওঠে, তাকে ইবনে খালদুন 'আসাবিয়া' নামে অভিহিত করেছেন। যাযাবর বেদুইনদের আসাবিয়া শক্তিশালী হওয়ার কারণে তারা নগর সভ্যতার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা গবেষণার ক্ষেত্রে 'সামাজিক জরিপ পদ্ধতি' (Social Survey Method) অবলম্বন করেছে।
সামাজিক জরিপ হলো এমন একটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা, ঘটনা বা আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালা বা সাক্ষাৎকারের সহায়তা নেওয়া হয়। উদ্দীপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কমলগঞ্জ গ্রামের মানুষের মনোভাব জানতে একটি 'প্রশ্নপত্র প্রণয়ন' করে এবং তার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। যেহেতু কোনো বৃহৎ বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মনোভাব জানার জন্য প্রশ্নপত্রের ব্যবহার সামাজিক জরিপ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য, তাই শিক্ষার্থীরা এখানে সামাজিক জরিপ পদ্ধতিই প্রয়োগ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষার্থীরা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায় বা ধাপ প্রয়োগ করেছে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
শিক্ষার্থীদের গবেষণায় প্রতিফলিত পর্যায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিষয় নির্বাচন: শিক্ষার্থীরা প্রথমে "ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের প্রতি কমলগঞ্জ গ্রামের মানুষের মনোভাব"— এই সুনির্দিষ্ট বিষয়টিকে তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
২. তথ্য সংগ্রহের হাতিয়ার তৈরি: গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র (Questionnaire) প্রণয়ন করেছে।
৩. তথ্য সংগ্রহ: প্রণীত প্রশ্নপত্রের সাহায্যে কমলগঞ্জ গ্রামের মানুষের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
৪. তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস ও প্রক্রিয়াজাতকরণ: সংগৃহীত তথ্যগুলোকে অর্থবহ ও সুশৃঙ্খল করতে তারা তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস (Classification) করেছে।
৫. ফলাফল বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যদ্বাণী: গবেষণার শেষ পর্যায়ে তারা ফলাফলের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের পথ নির্দেশ ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস বা সমাধান সূত্র প্রদান করে গবেষণা সম্পন্ন করেছে।পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষার্থীরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির মূল ধাপগুলো— বিষয় নির্বাচন থেকে শুরু করে তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও