সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জামালের মামা মো. আশরাফ আলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জামাল তার মামাকে নির্বাচিত করার জন্য খুবই পরিশ্রম করে। কিন্তু সে অবাক হয়ে লক্ষ করলো যে, তার দোস্ত নাফিসও তার পাশাপাশি যতটুকু সম্ভব ততটুকু শ্রম দিয়েছে।
- ক)(1)
বর্ধিত পরিবারে কয় পুরুষের বাস থাকে?
- খ)(2)
বিবাহ হলো এক ধরনের চুক্তি- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জামাল ও নাফিস কোন ধরনের জ্ঞাতিসম্পর্কে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজনে আত্মীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে"- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্ধিত পরিবারে সাধারণত তিন বা ততোধিক পুরুষের (প্রজন্মের) মানুষ একসাথে বসবাস করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবাহ হলো সমাজ ও আইন কর্তৃক স্বীকৃত এমন একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন নারী বৈধভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে বসবাসের অধিকার লাভ করে।
বিবাহের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষত মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহকে সুস্পষ্টভাবে একটি সামাজিক ও দেওয়ানি চুক্তি (Civil Contract) হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যাতে দেনমোহর ধার্য ও শর্তসাপেক্ষে তালাকের বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই বিবাহ কেবল ধর্মীয় সংস্কার নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও আইনি চুক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জামাল ও নাফিস কাল্পনিক বা রূপক জ্ঞাতিসম্পর্কে (Fictive Kinship) সম্পর্কিত।
রক্তের সম্পর্ক বা বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়াও সমাজস্বীকৃত কোনো সামাজিক বা আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যখন আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তখন তাকে কাল্পনিক বা প্রথাগত জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে। যেমন—মিতা, দোস্ত, ধর্মবাবা, ধর্মবোন ইত্যাদি।
উদ্দীপকে জামাল ও নাফিস পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা 'দোস্ত'। রক্তের সরাসরি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও নাফিস জামালের মামার নির্বাচনী প্রচারণায় জামালের মতোই শ্রম দিয়েছে। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দোস্ত বা মিতা সম্পর্ক এক ধরনের কাল্পনিক বা কৃত্রিম জ্ঞাতিসম্পর্ক, যার মাধ্যমে তারা আত্মীয়ের মতো দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং জামাল ও নাফিসের সম্পর্কটি কাল্পনিক জ্ঞাতিসম্পর্ক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজনে আত্মীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে"—উক্তিটি উদ্দীপক ও বাস্তব প্রেক্ষাপটের আলোকে যথার্থ এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ মূলত জ্ঞাতিসম্পর্ক বা আত্মীয়তার মজবুত বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে টিকে রয়েছে। গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুঃখ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় জ্ঞাতিগোষ্ঠী প্রধান ভূমিকা পালন করে। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্বাচনী প্রভাব: গ্রামীণ ক্ষমতার রাজনীতি এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর প্রধান ভিত্তি হলো তার বংশ ও জ্ঞাতিগোষ্ঠী। উদ্দীপকে মো. আশরাফ আলী যখন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তখন তাঁর ভাগ্নে জামাল দিনরাত পরিশ্রম করেছে। গ্রামীণ নির্বাচনে রক্ত ও বংশের আত্মীয়রা প্রচার-প্রচারণা ও ভোট সংগ্রাহক হিসেবে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসে।
২. পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি: গ্রামীণ সমাজে জ্ঞাতিরা একে অন্যের বিপদে-আপদে বা প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ায়। উদ্দীপকে আরও দেখা যায়, রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় জামালের পাশাপাশি তার দোস্ত নাফিসও নিঃস্বার্থ শ্রম দিয়েছে। গ্রামীণ সমাজে রক্তের সম্পর্কের পাশাপাশি কাল্পনিক জ্ঞাতি বা দোস্ত সম্পর্কের মানুষরাও পরম আত্মীয়ের মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা: প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার অভাবে গ্রামীণ জীবনে আত্মীয়স্বজনরাই যে কোনো সংকটে প্রাথমিক ও নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
অতএব, উদ্দীপকে আশরাফ আলীর পক্ষে জামাল ও তার দোস্তের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গ্রামীণ রাজনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে যে কোনো প্রয়োজনে আত্মীয়তা ও জ্ঞাতিসম্পর্ক অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও