পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রুমানা একাদশ শ্রেণীর একজন ছাত্রী। বাড়ি হতে তার কলেজের দূরত্ব ৩ কি. মি। পায়ে হেঁটে সে কলেজে যাতায়াত করে। কিছুদিন ধরে সে লক্ষ্য করছে কলেজে আসা যাওয়া পথে একটি ছেলে তাকে অনুসরণ করে এবং নানাভাবে শারীরিক অঙ্গভঙ্গি করে।একদিন ছেলেটিকে ডেকে এ ধরনের কাজ করার জন্য নিষেধ করে। এতে ছেলেটি ক্ষেপে গিয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলে ও ভয়-ভীতি দেখায়। রুমানা কলেজে এসে অধ্যক্ষ স্যারকে বিষয়টি জানালো। অধ্যক্ষ স্যার স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ছেলেটিকে এক বছরের কারাদণ্ডের দণ্ডিত করেন।
- ক)(1)
PSC এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
খাদ্য ভেজাল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি পাঠ্য বইয়ের যে ধরনের সমস্যার সাথে মিল রয়েছে তার কারন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
রুমানার সমস্যা সমাধানে তোমার সুপারিশমালা লিপিবদ্ধ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
PSC-এর পূর্ণরূপ হলো Public Service Commission।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যদ্রব্যে কৃত্রিম বা অননুমোদিত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে, নিম্নমানের উপাদান সংযোজন করে কিংবা খাদ্যের পুষ্টিমান নষ্ট করে ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করার প্রক্রিয়াকে খাদ্য ভেজাল বলে। এর ফলে মানবদেহে বিভিন্ন মরণব্যাধি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ে আলোচিত 'ইভটিজিং' বা 'যৌন হয়রানি' নামক সামাজিক সমস্যার সাথে মিলে যায়।
ইভটিজিং সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হলো নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষার অভাব। পরিবার থেকে সঠিক মূল্যবোধ, নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন না শেখার কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হয়। এছাড়া আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাব, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, বেকারত্ব ও অলস সময় কাটানো, মাদকের বিস্তার এবং প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি ইভটিজিংয়ের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রুমানাকে কলেজে আসা-যাওয়ার পথে একটি বখাটে ছেলে শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও অশালীন মন্তব্যের মাধ্যমে উত্যক্ত করে, যা এই বিকৃত মানসিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রুমানার মতো নারী ও কিশোরীদের ইভটিজিংয়ের হাত থেকে রক্ষা ও এ সমস্যা সমাধানে নিম্নোক্ত সুপারিশমালা গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: ইভটিজিং বা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ নিয়মিত আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকর করা।
২. পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা: পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষা ও জেন্ডার সমতার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং এলাকায় বখাটেপনা রোধে অভিভাবক ও স্থানীয় মুরুব্বিদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।
৩. নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা: স্কুল ও কলেজের পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশি টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক সেল গঠন: প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সক্রিয় কমিটি বা হেল্পডেস্ক রাখা যাতে শিক্ষার্থীরা ভয় না পেয়ে দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারে।
৫. সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ: কোনো অন্যায়ের ক্ষেত্রে পথচারী ও স্থানীয় জনতার রুখে দাঁড়ানো এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা হটলাইনের ব্যবহার বৃদ্ধি করা।এসব সুপারিশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও