ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অন্যদিকে ব্রিটেন ছিল জার্মানির প্রতিপক্ষ। ফলে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতের মুসলমানরা ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্র ধারণ করতে অস্বীকার করে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার ভারতের মুসলমানদের আশ্বস্ত করেন যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তুরস্কের খিলাফতের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা হবে। কিন্তু যুদ্ধে তুরস্ক পরাজিত হলে ব্রিটিশরা খলিফা পদটি বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্র করে; যা ভারতকে ক্ষুব্ধ করে।
- ক)(1)
কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি পাঠ্যপুস্তকের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের ফলাফল তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৫৮ সালের 'ভারত শাসন আইন' (Government of India Act 1858)-এর মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের কাছে মুসলমানদের দাবি-দাওয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থাপন করা এবং অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো ধরনের বৈরিতা সৃষ্টি না করে সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি পাঠ্যপুস্তকের 'খিলাফত আন্দোলন'-এর (১৯১৯-১৯২৪) কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষাবলম্বন করলে ভারতীয় মুসলিমরা ধর্মীয় আনুগত্যের কারণে তুরস্কের অটোমান খলিফার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকার তখন যুদ্ধকালীন সহযোগিতার বিনিময়ে খলিফার পদ ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু যুদ্ধে জার্মানি-তুরস্ক জোটের পরাজয়ের পর ব্রিটিশরা সেভ্রেসের চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ককে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয় এবং খিলাফতের মর্যাদা বিনষ্ট করতে সচেষ্ট হয়।
ব্রিটিশদের এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশবিরোধী যে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত। উদ্দীপকের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে এই ঐতিহাসিক পটভূমিকেই নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খিলাফত আন্দোলন ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। নিচে এর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রথমত, খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে মহাত্মা গান্ধী তাঁর 'অসহযোগ আন্দোলন' যুক্ত করেন, যার ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অভূতপূর্ব হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
দ্বিতীয়ত, শেষ পর্যন্ত তুরস্কের জাতীয়তাবাদী নেতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৪ সালে সুলতানি ও খিলাফত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক গঠন করলে খিলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে এবং আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।
তৃতীয়ত, আন্দোলনের অবসানের পর দীর্ঘস্থায়ী হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বে ভারতে নতুন করে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বৃদ্ধি পায়, যা ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অস্তিত্বের ধারণাকে আরও সুদৃঢ় করে এবং ক্রমান্বয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির পথকে প্রশস্ত করে।
সুতরাং, প্রত্যক্ষ লক্ষ্য অর্জিত না হলেও খিলাফত আন্দোলন ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করতে এবং উপমহাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও