কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
এহসান একজন মৎস্যচাষী। তিনি নিজের পুকুরে মাছ চাষ করেন। তিনি নিয়মিত মাছের পরিচর্যার দিকে খেয়াল করেন। হঠাৎ একদিন দেখলেন, কিছু মাছের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভেসে থাকছে। বিষয়টি দেখে তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন। আক্রান্ত একটি মাছ নমুনা হিসেবে উপজেলা মৎস্য অফিসে নিয়ে গেলেন। মৎস্য কর্মকর্তা মাছের পেটে চাপ দিয়ে তরল জাতীয় পদার্থ বের করাসহ আরও কিছু পরামর্শ দিলেন।stion
- ক)(1)
হ্যাচারি কী?
- খ)(2)
নিরাপদ মাহ সংরক্ষণ প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
এহসানের পুকুরের মাছ কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মৎস্য কর্মকর্তার এষসানকে দেওয়া পরামর্শটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে কৃত্রিম পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে মাছের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে ডিম থেকে রেণু পোনা তৈরি ও লালন-পালন করা হয়, তাকে হ্যাচারি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ দ্রুত পচনশীল একটি খাদ্য উপাদান। মাছ ধরার পর সঠিকভাবে ও নিরাপদ উপায়ে সংরক্ষণ না করলে ব্যাক্টেরিয়া, এনজাইম বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে মাছ নষ্ট হয়ে যায় এবং বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছের পুষ্টিমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা যায়, অপচয় রোধ হয় এবং ভোক্তা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ প্রোটিন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এহসানের পুকুরের মাছ 'ড্রপসি' (Dropsy) বা 'উদরশূল/পেটফোলা' রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
ড্রপসি রোগ সাধারণত অ্যারোমোনাস (Aeromonas) নামক ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণে হয়ে থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায়, এহসানের পুকুরের মাছগুলোর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছে, মাছগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ভারসাম্যহীন হয়ে পানির ওপর ভেসে থাকছে এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাছের পেটে চাপ দিয়ে তরল পদার্থ বের করে দেন। পেটের গহ্বরে হলুদ বা রক্তমিশ্রিত জলীয় তরল জমা হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া এবং ফুলকা ও আঁশ বিবর্ণ হওয়া ড্রপসি রোগের প্রধান লক্ষণ। অতএব, উদ্দীপকের লক্ষণসমূহ স্পষ্ট করে যে মাছগুলো ড্রপসি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৎস্য কর্মকর্তার এহসানকে দেওয়া প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক পরামর্শটি ছিল অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত, বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকরী।
ড্রপসি বা পেটফোলা রোগে মাছের পেটের ভেতরে ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণের কারণে অস্বাভাবিক তরল জমে মাছের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং মাছ মারা যায়। মৎস্য কর্মকর্তা আক্রান্ত মাছের পেটে হালকা চাপ দিয়ে সেই বিষাক্ত তরল বের করার যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে মাছের শারীরিক চাপ কমিয়ে সাময়িক আরাম দিতে সহায়ক।
তবে এই রোগের স্থায়ী নিরাময় ও পুকুরের অন্যান্য মাছকে রক্ষার জন্য কর্মকর্তা যে 'আরও কিছু পরামর্শ' দিয়েছেন তা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. আক্রান্ত মাছ পৃথকীকরণ: রোগাক্রান্ত মাছগুলোকে পুকুর থেকে তুলে আলাদা পাত্রে পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা লবণ পানিতে নির্দিষ্ট সময় ডুবিয়ে শোধন করে চিকিৎসা দিতে হবে।
২. অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ: ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংসের জন্য খাদ্য বা ইনজেকশনের মাধ্যমে অক্সিটেট্রাসাইক্লিন বা ক্লোরামফেনিকল জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের নির্দেশনা একান্ত প্রয়োজন।
৩. পুকুরের পরিবেশ উন্নয়ন: পুকুরে চুন (শতাংশে ১ কেজি) ও পর্যাপ্ত লবণ প্রয়োগ করে জীবাণুমুক্ত করা এবং অতিরিক্ত জৈব পদার্থ ও দূষিত পানি অপসারণের পরামর্শ দেওয়া জরুরি।সুতরাং, মৎস্য কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক তরল নিষ্কাশনের পরামর্শটি সাময়িক হলেও রোগটির বিস্তার রোধে তাঁর সার্বিক ও সমন্বিত পরামর্শ গ্রহণ এহসানের মাছ চাষে ক্ষতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও