বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আজ তুমি নেই সাথে ভুলে থাকা ছলনাতে মনে মনে ভাবি শুধু তোমারি কথা।পাওয়া না পাওয়ার মাঝে অচেনার সুর বাজে, সুরভিত বিরহের মরম ব্যথা।
- ক)(1)
কবি সুফিয়া কামাল কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- খ)(2)
"কোথা তব নব পুষ্প সাজ?-" উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উক্তিটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কথকের হৃদয় বেদনা যেন 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালে (২০শে নভেম্বর) মৃত্যুবরণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কোথা তব নব পুষ্প সাজ?-" চরণটির মাধ্যমে বসন্তের আগমনেও কবির উদাসীনতা ও সাজসজ্জাহীন অবস্থাকে লক্ষ্য করে ভক্ত-পাঠকের বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের শুভাগমন ঘটলেও কবির মনে কোনো আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি বিষাদগ্রস্ত ও উদাসীন হয়ে আছেন। কবিভক্তরা প্রত্যাশা করেছিলেন যে বসন্তের আগমনে কবি নিজেকে নতুন ফুলে ও ছন্দে সাজিয়ে তুলবেন। তাই কবির কোনো সাজসজ্জা বা আনন্দোচ্ছ্বাস না দেখে ব্যথিত কবিভক্ত ব্যাকুল হয়ে কবির কাছে জানতে চান, তাঁর বসন্তবরণের পুষ্পসাজ কোথায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উক্তিটিতে প্রিয়জন হারানোর বিরহবেদনার বিষয়টি আসায় তা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আংশিক প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির মনে প্রিয় স্বামী ও সাহিত্য-সাধনার প্রধান প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুর বেদনা ছায়া ফেলেছিল। এই তীব্র শোকের কারণে বসন্তের অফুরন্ত রূপ-রস-সৌন্দর্যও কবির হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি। বসন্তের মাঝেও কবির মন আচ্ছন্ন হয়ে থাকে তাঁর প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিতে।
উদ্দীপকের কথকও তাঁর প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে একাকিত্ব ও গভীর বিরহবেদনায় কাতর। ভুলতে চেয়েও তিনি কেবল প্রিয় মানুষটির কথাই মনে মনে ভাবেন। তবে কবিতায় প্রকৃতির অপরূপ বসন্তের আগমন এবং সেই আনন্দঘন পরিবেশের বিপরীতে কবির ব্যক্তিগত বিয়োগব্যথার যে এক অপূর্ব নাটকীয় দ্বন্দ্ব কবি ও ভক্তের কথোপকথনের মাধ্যমে রচিত হয়েছে, উদ্দীপকে কেবল বিরহের কথাটুকু রয়েছে, সেই ঋতুভিত্তিক প্রেক্ষাপট ও দ্বান্দ্বিক রূপটি নেই। ফলে উদ্দীপকে কবিতাটির বিরহী অনুভূতির কেবল আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কথকের হৃদয়বেদনা এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর একই সূত্রে গাঁথা—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
সুফিয়া কামালের 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল সুর হলো প্রিয়জন হারানোর গভীর শূন্যতাবোধ ও সুরভিত বিরহবেদনা। কবির জীবনের প্রথম স্বামী ও সাহিত্য-অনুপ্রেরণাদাতা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তর বিষাদ ও একাকিত্বে ভরে ওঠে। বাইরে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির অন্তরে কেবলই হাহাকার ও শোকের কুয়াশা। বসন্তের আহ্বানও কবির মন থেকে প্রিয়জনের বিয়োগব্যথাকে ভুলিয়ে দিতে পারে না; বরং প্রকৃতির উল্লাসের মাঝে তাঁর হৃদয়বেদনা আরও গভীর হয়ে বাজে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, কথক প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে এক গভীর মরম বেদনায় ভুগছেন। মুখে ভুলে থাকার ছলনা করলেও মনে মনে কেবল সেই হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের কথাই ভাবছেন। জীবনের পাওয়া না-পাওয়ার দোলাচলে এক সুরভিত বিরহব্যথা তাঁর হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
কবিতা ও উদ্দীপক—উভয় ক্ষেত্রেই প্রকাশ পেয়েছে প্রিয়জনকে হারানোর তীব্র হাহাকার, যা কোনো বাহ্যিক উপাদানে মোছা যায় না। অতএব, উদ্দীপকের কথকের অন্তরের বেদনা এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার অন্তর্নিহিত মূলসুর প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন ও একসূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও