যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
আরোহের ভিত্তি বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
‘কারণ হলো কার্যের শর্তহীন পূর্ববর্তী ঘটনা'— ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্থানে কী বসবে? সেগুলোর বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
‘শেষরাতের স্বপ্ন সবসময় সফল হয়’— এ যুক্তিটিতে কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে তার প্রকারভেদ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রক্রিয়া বা মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে আরোহ অনুমান তার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে, সেগুলোকে আরোহের ভিত্তি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, গুণের দিক থেকে কারণ হলো কার্যের অব্যবহিত, শর্তহীন, অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা। কোনো ঘটনাকে অন্য একটি ঘটনার কারণ হতে হলে তাকে অবশ্যই কার্যের পূর্বে ঘটতে হবে এবং কোনো বাহ্যিক বা অতিরিক্ত শর্তের ওপর নির্ভর না করে অনিবার্যভাবে কার্যটি ঘটাতে হবে। যেমন— আলো ও উত্তাপের কারণ হলো সূর্য; এটি কোনো বিকল্প বা অতিরিক্ত শর্তের অপেক্ষা না রেখেই কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনা হিসেবে বিদ্যমান থাকে। তাই কারণকে কার্যের শর্তহীন পূর্ববর্তী ঘটনা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ভাবনা-১' এবং 'ভাবনা-২'-এ আরোহের ভিত্তি নির্দেশ করা হয়েছে।
আরোহের ভিত্তি প্রধানত দুই প্রকার: ১. আকারগত ভিত্তি (প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম) এবং ২. বস্তুগত ভিত্তি (নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ)।
১. উদ্দীপকের 'ভাবনা-১'-এ 'ক' চিহ্নিত স্থানে বসবে আকারগত ভিত্তি (বা কার্যকারণ নিয়ম)। কারণ 'মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়' এবং 'জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে অসুস্থ হতে হয়'— এগুলো কার্যকারণ সম্পর্কের উদাহরণ। কার্যকারণ নিয়মানুসারে প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ থাকে এবং কারণ ছাড়া কোনো কার্য ঘটে না।
২. উদ্দীপকের 'ভাবনা-২'-এ 'খ' চিহ্নিত স্থানে বসবে বস্তুগত ভিত্তি (যার অন্তর্ভুক্ত হলো নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ)। কারণ 'চন্দ্রগ্রহণ' হলো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যা নিরীক্ষণের মাধ্যমে জানা যায় এবং 'অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন প্রস্তুত প্রণালী' হলো গবেষণাগারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের পরীক্ষণ। নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ হলো আরোহের বস্তুগত ভিত্তি, যা আশ্রয়বাক্যের বস্তুগত সত্যতা নিশ্চিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘শেষরাতের স্বপ্ন সবসময় সফল হয়’— এই যুক্তিটিতে আরোহের বস্তুগত ভিত্তি সংক্রান্ত 'অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি' (কাকতালীয় বা কার্যকারণ সংক্রান্ত কুসংস্কারজনিত অনিরীক্ষণ) ঘটেছে। নিরীক্ষণকে যথাযথভাবে প্রয়োগ না করে কেবল অনুকূল দৃষ্টান্তের ওপর নজর দিলে এ ধরনের ভ্রান্তি তৈরি হয়।
অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি মূলত দুই প্রকার:
১. সার্বিক দৃষ্টান্তের অনিরীক্ষণ বা ঘটনা অনিরীক্ষণ: কোনো সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যখন কেবল অনুকূল বা প্রত্যাশিত ঘটনাগুলোকে নিরীক্ষণ করা হয় এবং প্রতিকূল ঘটনাগুলোকে উপেক্ষা করা হয়, তখন এ অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশ্বাসটিতে কেবল যে যে ক্ষেত্রে শেষরাতের স্বপ্ন মিলে গেছে, সেগুলোকেই মনে রাখা হয়েছে; অথচ যেসব ক্ষেত্রে স্বপ্ন সফল হয়নি সেগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে।২. শর্ত অনিরীক্ষণ বা অপরিহার্য অংশের অনিরীক্ষণ: কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে কোনো অপরিহার্য বা আবশ্যিক শর্তকে বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক শর্তকে কারণ বলে মনে করলে এ অনুপপত্তি দেখা দেয়।
সুতরাং, ‘শেষরাতের স্বপ্ন সবসময় সফল হয়’— এই যুক্তিটিতে আরোহের বস্তুগত ভিত্তি অর্থাৎ নিরীক্ষণের অবহেলার কারণে 'অনুকূল দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ ও প্রতিকূল দৃষ্টান্ত অনিরীক্ষণজনিত' অনুপপত্তি ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও