‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সুশাসন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১ : একটি পৌরসভায় নাগরিক সেবা নিতে গেলে আগে ঘুষ ও তদবির ছাড়া কোনো কাজ হতো না। নতুন মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর অফিসের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনা হয়। সব সেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং নোটিশ বোর্ডে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়। নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি অভিযোগ বাক্স ও অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়। ফলে কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে এবং নাগরিকরা সহজেই সেবা পেতে শুরু করে।
দৃশ্যপট-২ : অপু ও তপু দুই বন্ধু। অপু একটি পোশাক কারখানার মালিক। গত বছর তিনি জেলা প্রশাসন থেকে শ্রেষ্ঠ করদাতার পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ট্রাফিক আইন অনুসরণ করে গাড়ি চালান। অপরদিকে তপু একজন শিক্ষক। তিনি ‘স্বপ্নডানা’ নামক একটি সমিতি গঠন করে সমাজে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা ইত্যাদির কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন।

  1. ক)

    মানবাধিকার কী?

    (1)
  2. খ)

    নৈতিক অধিকার কীভাবে সমাজকে দৃঢ় করে?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত অপু ও তপু নাগরিক হিসেবে কোন ধরনের কর্তব্য পালন করছে? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করার কারণে একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত মৌলিক অধিকারসমূহকে মানবাধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক, নীতিবোধ ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই অধিকারের পেছনে আইনের প্রত্যক্ষ বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তা মানুষের অন্তরের দায়বদ্ধতা থেকে জাগ্রত হয়। মানুষ যখন নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ করে, তখন সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিশ্বাস স্থাপিত হয়। ফলে সমাজে দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা দূর হয়ে সামাজিক সংহতি দৃঢ় ও মজবুত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত বিষয়টির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ‘সুশাসন’ (Good Governance)-এর ধারণার মিল রয়েছে।

    সুশাসন হলো এমন এক ধরনের পরিচালনা ব্যবস্থা, যেখানে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা এবং জনসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত হয়। এতে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকের পৌরসভায় আগে ঘুষ ও তদবিরের মতো দুর্নীতির উপস্থিতি ছিল। কিন্তু নতুন মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, তথ্যের উন্মুক্তকরণ (স্বচ্ছতা), অভিযোগ বাক্স ও অনলাইনের মাধ্যমে নাগরিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন এবং নাগরিকরা সহজেই সেবা পান। এগুলো সরাসরি সুশাসনের প্রধান উপাদান ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত অপু আইনগত কর্তব্য এবং তপু নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য পালন করছেন।

    নাগরিকের কর্তব্যকে মূলত আইনগত এবং নৈতিক বা সামাজিক—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত এবং অমান্য করলে শাস্তির বিধান থাকে এমন কর্তব্য হলো আইনগত কর্তব্য। অন্যদিকে, মানুষের বিবেকবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে যে কর্তব্যের সৃষ্টি হয়, তাকে নৈতিক বা সামাজিক কর্তব্য বলে।

    উদ্দীপকে অপু একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত কর পরিশোধ করে জেলা প্রশাসনের শ্রেষ্ঠ করদাতা হয়েছেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালান। কর প্রদান ও ট্রাফিক আইন মান্য করা হলো নাগরিকের মৌলিক 'আইনগত কর্তব্য', যা ভঙ্গ করলে আইনানুযায়ী দণ্ডের বিধান রয়েছে।

    অপরদিকে, শিক্ষক তপু ‘স্বপ্নডানা’ সমিতির মাধ্যমে সমাজে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথার মতো কুফল দূর করতে জনসচেতনতা গড়ে তুলছেন। এটি সমাজসেবা ও সমাজের মঙ্গলের জন্য বিবেকপ্রসূত একটি উদ্যোগ, যা নাগরিকের 'সামাজিক ও নৈতিক কর্তব্য'-এর অন্তর্ভুক্ত।

    অতএব, অপু আইনগত কর্তব্য এবং তপু সামাজিক ও নৈতিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে সুনাগরিকের আদর্শ ভূমিকা প্রদর্শন করছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন