জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মানুষের বক্ষদেশের অভ্যন্তরে এমন একটি যন্ত্র আছে যার স্পন্দনে রক্ত দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে পারে এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পুনরায় ফিরে আসতে পারে। সুস্থ দেহের জন্য প্রয়োজন যন্ত্রটির স্বাভাবিক স্পন্দন।
- ক)(1)
অসমোরেগুলেশন কী?
- খ)(2)
মায়োজনিক নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
যন্ত্রটির মধ্যে যে সমস্ত কপাটিকা আছে তাদের গুরুত্ব উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত যন্ত্রটির স্বাভাবিক স্পন্দন চাক্রিক গতিতে সম্পন্ন হয়- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেহে পানি ও খনিজ লবণের পরিমাণের মধ্যে সমতা রক্ষা করে দেহের তরলের অভিস্রবণিক চাপ স্বাভাবিক রাখার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাইরে থেকে কোনো স্নায়বিক উদ্দীপনা ছাড়াই হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব পেশিকলা (বিশেষ রূপান্তরিত কার্ডিয়াক পেশিতন্ত্র বা জাংশনাল টিস্যু) দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পন্দন সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাকে মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ বলে। মানুষের হৃৎপিণ্ড এই মায়োজেনিক প্রকৃতির।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত যন্ত্রটি হলো মানুষের হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন অংশে অবস্থিত কপাটিকাগুলোর (Valves) গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ট্রাইকাসপিড কপাটিকা: ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে; এটি রক্তকে ডান অলিন্দ থেকে ডান নিলয়ে প্রবেশ করতে দেয় কিন্তু বিপরীত দিকে ফিরে যেতে বাধা দেয়।
২. বাইকাসপিড বা মাইট্রাল কপাটিকা: বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে; এটি বাম অলিন্দ থেকে রক্ত বাম নিলয়ে যেতে দেয় এবং বিপরীত প্রবাহ রোধ করে।
৩. পালমোনারি কপাটিকা (অর্ধচন্দ্রাকার): ডান নিলয় ও পালমোনারি ধমনির সংযোগস্থলে অবস্থান করে রক্তকে ফুসফুসে যেতে দেয়, পুনরায় নিলয়ে ফিরে আসতে দেয় না।
৪. অ্যাওর্টিক কপাটিকা (অর্ধচন্দ্রাকার): বাম নিলয় ও মহাধমনির সংযোগস্থলে থাকে; রক্ত মহাধমনিতে প্রবেশের পর তা পুনরায় বাম নিলয়ে ফিরে আসতে পারে না।
৫. ইউস্টেচিয়ান ও থিবেসিয়ান কপাটিকা: যথাক্রমে ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভা ও করোনারি সাইনাসের রক্তকে অলিন্দ থেকে উল্টো দিকে ফিরে যেতে বাধা দেয়।সামগ্রিকভাবে, কপাটিকাগুলো রক্ত প্রবাহকে সর্বদাই একমুখী রাখে এবং রক্ত মিশ্রণ বা বিপরীত প্রবাহ প্রতিহত করে হৃৎপিণ্ডের ছন্দময় সঞ্চালন নিশ্চিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত যন্ত্রটি হলো হৃৎপিণ্ড, যার স্বাভাবিক স্পন্দন একটি নির্দিষ্ট ও নিরবচ্ছিন্ন চক্রাকার গতিতে সম্পন্ন হয়—যাকে কার্ডিয়াক চক্র (Cardiac Cycle) বলে। একটি হৃৎস্পন্দনের শুরু থেকে পরবর্তী হৃৎস্পন্দনের শুরু পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাবলির সমষ্টিই হলো এই চক্র।
একটি স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনে (প্রতি মিনিটে প্রায় ৭৫ বার) কার্ডিয়াক চক্রটি প্রায় ০.৮ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং চারটি সুনির্দিষ্ট ধাপে পর্যায়ক্রমে ঘটে:
১. অলিন্দের ডায়াস্টোল (০.৭ সেকেন্ড): অলিন্দ দুটি শিথিল থাকে এবং এতে সুপিরিয়র ও ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভা এবং পালমোনারি শিরা দিয়ে রক্ত এসে জমা হয়।
২. অলিন্দের সিস্টোল (০.১ সেকেন্ড): অলিন্দ সংকুচিত হয়ে ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকার মাধ্যমে রক্তকে নিলয়ে প্রেরণ করে।
৩. নিলয়ের সিস্টোল (০.৩ সেকেন্ড): রক্তপূর্ণ নিলয় দ্রুত সংকুচিত হয়। এর ফলে ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা সশব্দে বন্ধ হয় (প্রথম হৃদ্ধ্বনি বা 'লাব') এবং সেমিলুনার কপাটিকা উন্মুক্ত হয়ে রক্ত পালমোনারি ধমনি ও মহাধমনিতে প্রবেশ করে।
৪. নিলয়ের ডায়াস্টোল (০.৫ সেকেন্ড): নিলয়ের সংকোচন শেষে তা প্রসারিত হতে শুরু করে। রক্ত ফিরে আসার চাপ তৈরি হলে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ হয় (দ্বিতীয় হৃদ্ধ্বনি বা 'ডাব')। এরপর অলিন্দ থেকে রক্ত পুনরায় নিলয়ে প্রবেশ করতে থাকে।এই সিস্টোল (সংকোচন) এবং ডায়াস্টোল (প্রসারণ)-এর প্রতিটি চক্র সম্পূর্ণ হওয়ার পরপরই পরবর্তী চক্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয়। সুতরাং, হৃৎপিণ্ডের এই কার্যপদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট সময় ও ক্রমে চক্রাকারে পুনরাবৃত্ত হয় বলেই বলা যায় এর স্বাভাবিক স্পন্দন চাক্রিক গতিতে সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও