বাংলা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখ:
12.1.
ক. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আমাদের করণীয়
12.2.
খ. ইন্টারনেট ও বর্তমান বাংলাদেশ
12.3.
গ. কৃষিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং কৃষক
12.4.
ঘ. দুর্নীতি: উন্নয়নের অন্তরায়
12.5.
ঙ. বাংলাদেশের উৎসব
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আমাদের করণীয়
ভূমিকা:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড অর্জনের লড়াই ছিল না, বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের শোষণ, বঞ্চনা ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সাম্যবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আত্মত্যাগপূর্ণ সংগ্রাম। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী:
মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র (শোষণমুক্তি) এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। অর্থাৎ এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না, প্রতিটি নাগরিক বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ভোগ করবে এবং ধর্মান্ধতামুক্ত মানবিক পরিবেশ বিরাজ করবে।
স্বাধীনতার অর্জন ও অপূর্ণতা:
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে বাংলাদেশ কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন সমাজ এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক অবিচার এখনো সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করছে।
আমাদের করণীয়:
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে:
১. দেশপ্রেম জাগ্রত করা: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ও সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
২. দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন: জাতীয় জীবনের সকল স্তর থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. বৈষম্যহীন অর্থনীতি: ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দূর করে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা: যেকোনো মূল্যে ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিহত করে পরমতসহিষ্ণু সমাজ বিনির্মাণ করতে হবে।
৫. মেধাশ্রম ও কর্মনিষ্ঠা: দেশকে আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত করতে তরুণ প্রজন্মকে সততা, আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির আলোয় উদ্ভাসিত হতে হবে।
উপসংহার:
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা তাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব। দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করাই হোক প্রতিটি নাগরিকের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও