ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও পণ্য আমদানি ও রপ্তানি দুটোই করে থাকে। তার রপ্তানি পণ্যের চেয়ে আমদানি পণ্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। কাজেই রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই 'ক' দেশটির জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

  1. ক)

    WTO এর পূর্ণরূপ লেখো ।

    (1)
  2. খ)

    শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' দেশটির বাণিজ্যের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।Option C

    (3)
  4. ঘ)

    “রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই 'ক' দেশটির জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ”- তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    WTO এর পূর্ণরূপ হলো World Trade Organization (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিল্প খাত অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। কৃষি খাতের তুলনায় শিল্পে শ্রমের উৎপাদনশীলতা এবং বহুমুখী কাজের সুযোগ বেশি থাকে। একটি শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে সরাসরি শ্রমিক, কারিগর, প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপকদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি কাঁচামাল সরবরাহ, পরিবহন, বিপণন ও সেবা খাতে পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে বেকারত্ব দূরীকরণ ও আয় বৃদ্ধিতে শিল্প খাত অত্যন্ত সহায়ক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশটির বাণিজ্যের প্রকৃতি হলো ‘প্রতিকূল বা বাণিজ্য ঘাটতিযুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য’ (Deficit International Trade)।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যখন কোনো দেশের মোট রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হয়, তখন তাকে প্রতিকূল বাণিজ্য বা বাণিজ্য ঘাটতি বলে। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ক' একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও পণ্য আমদানি ও রপ্তানি দুটোই করে। কিন্তু তার রপ্তানি পণ্যের চেয়ে আমদানি পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ বেশি। এর ফলে দেশটিকে পণ্য ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করতে হয় এবং দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সুতরাং, 'ক' দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য প্রতিকূল প্রকৃতির।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই 'ক' দেশটির জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ”—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকের 'ক' দেশটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানি উভয় প্রক্রিয়া বজায় রাখলেও আমদানির পরিমাণ বেশি থাকায় দেশটি প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়, জাতীয় মুদ্রা অবমূল্যায়িত হয় এবং বহিঃস্থ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করে।

    এই প্রতিকূল অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের প্রধান উপায় হলো রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বাড়লে দেশটির রপ্তানি আয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, যা আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দূর হয়ে বাণিজ্য ভারসাম্য অনুকূলে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে। এছাড়া দেশে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। তাই অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন ও উন্নয়নশীল অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে 'ক' দেশটির জন্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন