ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবক ইরফান। পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য আক্রমণ করেন। উন্নত রণনীতি ও সমরাস্ত্রের সাহায্যে প্রতিবেশীর বিশাল সৈন্যবাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করে রাজ্যের গাংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করার গৌরব অর্জন করেন।
- ক)(1)
'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
মুঘলদের পরিচয় ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? 'ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত লাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হুমায়ুন' একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ 'ভাগ্যবান'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল শব্দটি আরবি ও ফারসি 'মঙ্গোল' শব্দ থেকে উদ্ভূত। মধ্য এশিয়ার মোঙ্গল ও তুর্কি জাতির সংমিশ্রণে মুঘলদের উৎপত্তি। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন পিতৃকুল থেকে তৈমুর লঙের পঞ্চম বংশধর এবং মাতৃকুল থেকে চেঙ্গিস খানের চতুর্দশ বংশধর। এ দুই দুর্ধর্ষ যোদ্ধা জাতির রক্তধারার উত্তরাধিকারী হিসেবে বাবর ও তাঁর উত্তরসূরিরা ভারতবর্ষে যে বিখ্যাত রাজবংশের সূচনা করেন, তা ইতিহাসে মুঘল রাজবংশ নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ভাগ্যবিড়ম্বিত যুবক ইরফানের ঘটনার সাথে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
বাবর পিতার মৃত্যুর পর মাত্র এগারো বছর বয়সে মধ্য এশিয়ার ফরগনার সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু জ্ঞাতি-ভাই এবং নিকটাত্মীয়দের শত্রুতা ও চক্রান্তের কারণে তিনি পৈতৃক রাজ্য হারান। বারবার চেষ্টা করেও তিনি ফরগনা ও সমরকন্দ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। অবশেষে তিনি কাবুলে ভাগ্য অন্বেষণ করেন এবং কাবুল জয় করেন। পরবর্তীতে ভারতবর্ষের তৎকালীন অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে তিনি ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
উদ্দীপকের ইরফানও পৈতৃক রাজ্য হারিয়ে প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে উন্নত রণকৌশল ব্যবহার করে বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে নতুন সাম্রাজ্য গড়েন। এ ঘটনাটি বাবরের জীবনের উত্থান ও ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে উল্লিখিত শাসক অর্থাৎ সম্রাট জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজেতা ও অত্যন্ত প্রতিভাবান শাসক।
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে (১৫২৬ খ্রি.) বাবর দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির বিশাল বাহিনীকে তুঘলমা রণকৌশল এবং কামান ও আধুনিক সমরাস্ত্রের সাহায্যে পরাস্ত করেন। এর মাধ্যমে ভারতে দীর্ঘ তিন শতাব্দীর বেশি সময়ের দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে খানুয়ার যুদ্ধে (১৫২৭ খ্রি.) রাজপুত বীর রানা সঙ্গকে এবং ঘাগড়ার যুদ্ধে (১৫২৯ খ্রি.) আফগানদের পরাজিত করে তিনি ভারতে নিজের অবস্থান সুসংহত করেন।
বাবর কেবল সামরিক বিজয়েই শ্রেষ্ঠ ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন অনন্য সাহিত্যিক ও কবি। তাঁর আত্মজীবনী 'তুজুক-ই-বাবরি' বা 'বাবরনামা' বিশ্বসাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন। বৈরী পরিবেশ ও চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি যেভাবে অসীম সাহস ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তা তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তাই উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, বাবরের অনন্য কৃতিত্ব ছিল তাঁর রণকৌশল, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও একটি স্থায়ী সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও