কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
দুগ্ধ খামার কী?
- খ)(2)
গাভির দুধ উৎপাদন কম-বেশি হয় কেন?
- গ)(3)
চিত্রের পশুটি কোন রোগে আক্রান্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আক্রান্ত পশুটিকে সুস্থ করতে তোমার পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাণিজ্যিকভাবে দুধ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে উন্নত জাতের গাভি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লালন-পালন ও ব্যবস্থাপনা করার স্থান বা প্রতিষ্ঠানকে দুগ্ধ খামার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গাভির দুধ উৎপাদন বিভিন্ন কারণে কম-বেশি হয়, যার মধ্যে জাত, খাদ্য ও পুষ্টি, বয়স, স্বাস্থ্য এবং খামার ব্যবস্থাপনা অন্যতম। উন্নত জাতের গাভি দেশি জাতের তুলনায় বেশি দুধ দেয়। এছাড়া পর্যাপ্ত পুষ্টিকর সুষম খাদ্য ও কাঁচা ঘাস সরবরাহ, গর্ভধারণকাল, নিয়মিত দোহন এবং রোগমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখলে দুধের উৎপাদন বেশি হয়, অন্যথায় দুধ উৎপাদন হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে গলার নিচে ফোলা অংশ নির্দেশ করা হয়েছে, যা পশুটির 'গলাফুলা' (Haemorrhagic Septicaemia) রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে।
গলাফুলা রোগটি মূলত 'Pasteurella multocida' নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়। এ রোগে আক্রান্ত পশুর প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায় এবং গলার নিচে, চোয়ালের তলদেশে কিংবা গলদেশে তীব্র প্রদাহ ও গরম ফোলা দেখা দেয়। চিত্রে নির্দেশিত তীরচিহ্ন দ্বারা পশুর নিচের চোয়াল বা গলার ফোলা স্থানটি দেখানো হয়েছে। এছাড়াও আক্রান্ত পশুর শ্বাসকষ্ট হয়, মুখ দিয়ে লালা ঝরে এবং দ্রুত চিকিৎসা না দিলে পশু মারা যেতে পারে। সুতরাং, চিত্র ও লক্ষণের ভিত্তিতে পশুটি গলাফুলা রোগে আক্রান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গলাফুলা রোগে আক্রান্ত পশুটিকে সুস্থ করতে এবং খামারের অন্যান্য পশুকে নিরাপদ রাখতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করব:
১. পৃথকীকরণ: আক্রান্ত পশুটিকে তৎক্ষণাৎ সুস্থ পশুদের থেকে আলাদা করে শুষ্ক ও আরামদায়ক স্থানে রাখতে হবে।
২. জরুরি চিকিৎসা: গলাফুলা অত্যন্ত দ্রুত প্রাণঘাতী হওয়ায় রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবিলম্বে অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন- সালফোনামাইড বা টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ইনজেকশন) প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. ফোলা অংশের পরিচর্যা: ফোলা স্থানে ব্যথানাশক মলম বা শেঁক দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. সহজপাচ্য খাদ্য সরবরাহ: পশুটির গলায় ব্যথা থাকায় শক্ত খাবার বাদ দিয়ে নরম, তরল ও পুষ্টিকর খাবার যেমন- পাতলা জাউ এবং পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে।
৫. জীবাণুনাশক প্রয়োগ ও স্বাস্থ্যবিধি: পশুর শেড এবং ব্যবহৃত পাত্রাদি জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
৬. টিকা প্রদান: খামারের অবশিষ্ট সুস্থ পশুগুলোকে গলাফোলার প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে আক্রান্ত পশুটিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও