‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রবিউলের কলেজের সামনে মারামারি হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রবিউলকে গ্রেফতার করে। তার অপরাধ কী এবং সে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখতে চায়। পুলিশ তাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে পারে না। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি বিচারককে বলেন, আমি আমার অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি এদেশের নাগরিক, এদেশে আমার সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তার কোন অপরাধ না থাকায় বিচারক তাকে মুক্তির আদেশ প্রদান করেন।

  1. ক)

    আইন কোন ভাষায় শব্দ?

    (1)
  2. খ)

    নৈতিকতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    রবিউলের গ্রেফতারে আইনের কীসের ব্যত্যয় ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রবিউলের প্রতি আদালতের রায়ের মাধ্যমে কী প্রতিষ্ঠা পেয়েছে? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আইন' ফারসি ভাষার শব্দ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত বিবেকবোধ, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ড বা আত্মিক অনুশাসন।

    নৈতিকতা মানুষের সমাজস্বীকৃত এমন কিছু মূল্যবোধ ও নিয়মের সমষ্টি, যা মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে পালন করে। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং মানুষের মানসিক উপলব্ধি। নৈতিকতা ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো শাস্তি দেয় না, তবে সমাজের তিরস্কার ও বিবেকের দংশনে পড়তে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রবিউলের গ্রেফতারে 'আইনের শাসন'-এর ব্যত্যয় ঘটেছে।

    আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের চোখে সকলেই সমান এবং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকেই গ্রেফতার বা শাস্তি দেওয়া যায় না। অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের অন্যতম মূলনীতি হলো—কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ প্রমাণ ব্যতীত বা আইনানুগ যথাযথ পদ্ধতি ছাড়া আটক রাখা বা শাস্তি দেওয়া যাবে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কলেজের সামনে মারামারির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়। রবিউল গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখতে চাইলেও পুলিশ তা দেখাতে ব্যর্থ হয় এবং তার অপরাধ সম্পর্কে কোনো প্রমাণ বা নোটিশ ছাড়া তাকে আটক করা হয়। কোনো নাগরিককে কারণ দর্শানো বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া এভাবে আটক করা আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন। রবিউলের মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় এখানে আইনের শাসনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রবিউলের প্রতি আদালতের রায়ের মাধ্যমে মূলত 'আইনের শাসন' এবং 'বিচার বিভাগের স্বাধীনতা' প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

    একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার শেষ আশ্রয়স্থল হলো নিরপেক্ষ আদালত। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে নাগরিকরা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার বা অন্যায় দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা পায়। উদ্দীপকে রবিউলকে বিনা পরোয়ানায় মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সুবিচার প্রার্থনা করে। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে কোনো অপরাধ না পাওয়ায় তাকে মুক্তির আদেশ দেন।

    বিচারকের এই রায় প্রমাণ করে যে, আইনের চোখে সবাই সমান এবং সুবিচার পাওয়ার অধিকার সকলের রয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র বা পুলিশ চাইলেই কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব করতে পারে না। আদালতের এই সিদ্ধান্ত নাগরিকের অধিকার রক্ষা করেছে, ব্যক্তি স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছে এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকে সমুন্নত করেছে।

    অতএব, রবিউলের মুক্তির রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়ে সমাজে আইনের শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন