পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংকট নিরসনে ব্রিটিশ সরকার ৩ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে। কিন্তু শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে দুটি রাজনৈতিক দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে কমিশন নিজস্ব চিন্তাধারা সম্বলিত একটি পরিকল্পনা পেশ করে।
- ক)(1)
বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কোন সালে?
- খ)(2)
বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয় কোন কর্মসূচিকে এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন পরিকল্পনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনাটির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' কর্মসূচিকে বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বা মুক্তির সনদ বলা হয়।
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন জনগণের অধিকার স্বীকার করে যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, তা ছিল ইংল্যান্ডের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বা ম্যাগনাকার্টা। একইভাবে, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও বৈষম্য থেকে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করেছিল। তাই একে বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৬ সালের 'ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা' বা 'মন্ত্রিমission পরিকল্পনা'-র মিল রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতে সৃষ্ট তীব্র রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিনজন প্রভাবশালী সদস্য—লর্ড পেথিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডারকে ভারতে পাঠায়। একে 'ক্যাবিনেট মিশন' বলা হয়। মিশনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের প্রধান দুই দল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বসম্মত শাসনতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছানো।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার ৩ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে এবং দুটি দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে কমিশন নিজস্ব পরিকল্পনা পেশ করে। বাস্তবেও কংগ্রেস ছিল ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে এবং মুসলিম লীগ ছিল পাকিস্তান দাবির পক্ষে। উভয় দলের মতবিরোধ নিরসনে ব্যর্থ হয়ে ক্যাবিনেট মিশন ১৯৪৬ সালের ১৬ মে নিজস্ব চিন্তাধারা সম্বলিত প্রস্তাব পেশ করে। সুতরাং, উদ্দীপকটি ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনাকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ 'ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা (১৯৪৬)'-এর সাময়িক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হলেও চূড়ান্ত বিচারে তা স্থায়ী রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল।
ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনায় ভারতকে একটি সর্বভারতীয় ইউনিয়ন হিসেবে প্রস্তাব করা হয় এবং প্রদেশগুলোকে ক, খ ও গ—এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করে সীমিত কেন্দ্র ও শক্তিশালী প্রদেশভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের সুপারিশ করা হয়। মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবি সরাসরি মেনে না নেওয়া হলেও গ্রুপ পদ্ধতির মধ্যে ভবিষ্যতের স্বায়ত্তশাসনের সম্ভাবনা দেখে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনাটি গ্রহণ করে। কংগ্রেসও একটি অখণ্ড ভারতের কাঠামো পেয়ে প্রাথমিকভাবে এতে সম্মতি দেয়।
তবে পরবর্তীতে এর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। জওহরলাল নেহরু গ্রুপ পদ্ধতির বাধ্যতামূলক চরিত্র নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেন এবং বলেন গণপরিষদ যেকোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সার্বভৌম ক্ষমতা রাখবে। এর ফলে মুসলিম লীগের মনে সন্দেহ তৈরি হয় এবং তারা পরিকল্পনা থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। মুসলিম লীগ ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস' ঘোষণা করলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়।
অতএব বলা যায়, ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনাটি ছিল ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা এবং মুসলিমদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির মধ্যে একটি মধ্যপন্থা বা আপস ফর্মুলা। তবে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যকার পারস্পরিক চরম অবিশ্বাস এবং পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক লক্ষ্যের কারণে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে পারেনি এবং এর ব্যর্থতার ফলেই ভারত বিভক্ত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও