যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সহানুমান কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘সহানুমানের কেবল তিনটি পদই থাকবে’- বুঝিয়ে লিখ ।

    (2)
  3. গ)

    উপরের চিত্রগুলোতে M এর ভূমিকা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-১ এবং চিত্র-২ দ্বারা কোন ধরনের সংস্থান নির্দেশ করে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে সহানুমান (Syllogism) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি আদর্শ বা খাঁটি সহানুমানের অন্যতম প্রধান গঠনগত নিয়ম হলো এতে কেবল এবং কেবল তিনটি পদই থাকবে—এর বেশিও নয়, কমও নয়। এই তিনটি পদ হলো: প্রধান পদ (Major Term বা P), অপ্রধান পদ (Minor Term বা S) এবং মধ্যপদ (Middle Term বা M)। সহানুমানের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপদের মধ্যস্থতায় প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করা। যদি কোনো যুক্তিতে তিনটির অধিক পদ ব্যবহৃত হয়, তবে সেখানে পদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংযোগ স্থাপিত হতে পারে না এবং ‘চতুষ্পদী অনুপপত্তি’ (Fallacy of Four Terms) ঘটে। তাই সহানুমানের বৈধতার জন্য ঠিক তিনটি পদের উপস্থিতি অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রগুলোতে ‘M’ প্রতীকটি মধ্যপদ বা হেতুপদ (Middle Term)-কে নির্দেশ করে। সহানুমানের গঠন ও সিদ্ধান্ত প্রণয়নে মধ্যপদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে M বা মধ্যপদের ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. সেতুবন্ধন বা সংযোগ স্থাপন: মধ্যপদ উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে। এটি প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের (P) সাথে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের (S) সাথে সম্পর্কিত হয়ে তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক বা সেতুবন্ধন তৈরি করে। মধ্যপদের মধ্যস্থতার ফলেই সিদ্ধান্তে ‘S হয় P’ বা ‘S নয় P’ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
    ২. সংস্থান নির্ধারণ: আশ্রয়বাক্যদ্বয়ে মধ্যপদের অবস্থানের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করেই সহানুমানের বিভিন্ন সংস্থান (Figure) নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকের চিত্র-১ এ মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের বিধেয় হিসেবে বসেছে। আবার চিত্র-২ এ মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যের বিধেয় এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য হিসেবে অবস্থান নিয়েছে।
    ৩. ব্যাপ্যতা নিশ্চিতকরণ: সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী মধ্যপদকে আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের মধ্যে অন্তত একবার অবশ্যই ব্যাপ্য হতে হয়, অন্যথায় অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি ঘটে।

    অতএব, সহানুমানের সিদ্ধান্ত অনুমানে মধ্যপদ ‘M’ মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সহানুমানের আশ্রয়বাক্যদ্বয়ে মধ্যপদের (M) অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সহানুমানের যে বিভিন্ন আকার বা রূপ পাওয়া যায়, তাকে সংস্থান (Figure) বলা হয়। উদ্দীপকের চিত্র-১ এবং চিত্র-২ যথাক্রমে সহানুমানের প্রথম সংস্থান এবং চতুর্থ সংস্থানকে নির্দেশ করে। নিচে এগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. চিত্র-১ (প্রথম সংস্থান):
    চিত্র-১ এর গঠনটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
    প্রধান আশ্রয়বাক্য: M — P (মধ্যপদ উদ্দেশ্য, প্রধান পদ বিধেয়)
    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: S — M (অপ্রধান পদ উদ্দেশ্য, মধ্যপদ বিধেয়)
    সিদ্ধান্ত: S — P
    এখানে মধ্যপদ (M) প্রধান আশ্রয়বাক্যে উদ্দেশ্য (Subject) হিসেবে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে বিধেয় (Predicate) হিসেবে অবস্থান করছে। সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী, যে সংস্থানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের বিধেয় হয়, তাকে প্রথম সংস্থান (First Figure) বলে। সুতরাং চিত্র-১ প্রথম সংস্থান নির্দেশ করে।

    ২. চিত্র-২ (চতুর্থ সংস্থান):
    চিত্র-২ এর গঠনটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
    প্রধান আশ্রয়বাক্য: P — M (প্রধান পদ উদ্দেশ্য, মধ্যপদ বিধেয়)
    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: M — S (মধ্যপদ উদ্দেশ্য, অপ্রধান পদ বিধেয়)
    সিদ্ধান্ত: S — P
    এখানে মধ্যপদ (M) প্রধান আশ্রয়বাক্যে বিধেয় (Predicate) হিসেবে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে উদ্দেশ্য (Subject) হিসেবে অবস্থান করছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে সংস্থানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যের বিধেয় এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য হয়, তাকে চতুর্থ সংস্থান (Fourth Figure) বলে। এটি প্রথম সংস্থানের ঠিক বিপরীত রূপ। সুতরাং চিত্র-২ চতুর্থ সংস্থান নির্দেশ করে।

    পরিশেষে বলা যায়, মধ্যপদের অবস্থানের তারতম্যের কারণে চিত্র-১ প্রথম সংস্থান এবং চিত্র-২ চতুর্থ সংস্থানকে সার্থকভাবে উপস্থাপন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন