যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট একটি ব্যাপক বিষয়। এর সাহায্যে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস অ্যাপ, ইমো, জুম ইত্যাদি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র মাধ্যমকেও ব্যাখ্যা করা যায়।দৃশ্যকল্প-২: কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনের ফলে সৃষ্ট দুর্দশা দেখার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রী চরবাড়িয়া এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি আনুমানিক ধারণা গঠন করলেন যে, কীর্তনখোলা নদীর তীর ধরে বাঁধ নির্মাণ করলে মানুষের দুর্দশা লাঘব হবে।
- ক)(1)
বাস্তব কারণ কি?
- খ)(2)
সংকট উত্তরক দৃষ্টান্ত কেন প্রয়োজন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকল্পের কোন বিষয়টি নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত বিষয়টির স্তরগুলো আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিতে যে কারণটির বাস্তবিক বা বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে এবং যাকে পর্যবেক্ষণ বা প্রমাণের দ্বারা নিশ্চিত করা যায়, তাকে যুক্তিবিদ্যায় 'বাস্তব কারণ' (Vera Causa) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন কোনো ঘটনার ব্যাখ্যায় দুই বা ততোধিক প্রতিযোগী প্রকল্প সমানভাবে প্রাসঙ্গিক মনে হয়, তখন তাদের মধ্যে কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভ্রান্ত তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করার জন্য সংকট উত্তারক দৃষ্টান্ত (Crucial Instance) প্রয়োজন। সংকট উত্তারক দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণের মাধ্যমে একটি প্রকল্পকে সত্য প্রমাণ করে এবং অন্য প্রতিযোগী প্রকল্পগুলোকে বাতিল করতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে 'ব্যাপক প্রকল্প' বা 'প্রকল্পের সাধারণীকরণ/সমন্বয়' (Consilience of Inductions) বিষয়টি নির্দেশ করে।
যুক্তিবিদ্যায় যখন একটি প্রকল্প কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে নয়, বরং বহু ভিন্নধর্মী বা অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র বিষয়কেও ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়, তখন তাকে প্রকল্পের ব্যাপকতা বলা হয়।
উদ্দীপকে ইন্টারনেটকে একটি ব্যাপক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সাহায্যে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, জুম ইত্যাদি ক্ষুদ্র মাধ্যমগুলোর কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করা যায়। এটি প্রকল্পের সেই ধারণাকে নির্দেশ করে যেখানে একটি মৌলিক বা কেন্দ্রীয় প্রকল্প একাধিক আনুষঙ্গিক বিষয়কে সফলভাবে ব্যাখ্যা করার শক্তি রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'প্রকল্প প্রণয়ন ও তার স্তর'। মন্ত্রী মহোদয়ের আনুমানিক ধারণা গঠন করা একটি প্রকল্প গঠনের দৃষ্টান্ত। একটি বৈধ বা আদর্শ প্রকল্পের প্রধান স্তর বা পর্যায় চারটি:
১. ঘটনা পর্যবেক্ষণ (Observation of facts): কোনো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের প্রথম স্তর হলো পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। উদ্দীপকে মন্ত্রী মহোদয় কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন ও মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
২. আনুমানিক ধারণা গঠন (Formation of hypothesis): পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার কারণ বা সমাধানের একটি সম্ভাব্য আনুমানিক ধারণা গঠন করা হয়। যেমন উদ্দীপকে মন্ত্রী ধারণা করেন যে নদীর তীর ধরে বাঁধ নির্মাণ করলে দুর্দশা লাঘব হবে।
৩. সিদ্ধান্ত বা অবরোহমূলক অনুমান (Deductive inference): প্রকল্প থেকে যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করা হয়। যেমন- বাঁধ দিলে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে না এবং ভাঙন রোধ হবে।
৪. যাচাইকরণ বা প্রমাণ (Verification): অনুমিত সিদ্ধান্ত বাস্তব ঘটনার সাথে মেলে কি না তা পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। বাঁধ নির্মাণের পর যদি দেখা যায় ভাঙন রোধ হয়েছে এবং মানুষের দুর্দশা দূর হয়েছে, তবে প্রকল্পটি সত্য হিসেবে গৃহীত ও প্রমাণিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও