বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

10.1.

'সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে সচেতনতা' এই শিরোনামে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

10.2.

নিচে প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণে ‘আজ সফলতার সিঁড়িতে’ এই শিরোনামে একটি খুদেগল্প রচনা করো:জীবন বড়ই বিচিত্র। অনিকের এমন একদিন ছিল, যখন প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার মতো অর্থ তার ঘরে ছিল না। জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে আজ একটা ভালো চাকরি করে সে। বাবা বড় দুঃখ মানুষ করেছে ...

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১০.১. 'সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে সচেতনতা' শিরোনামে সংলাপ:

স্থান: স্কুলের মাঠের এক কোণে
চরিত্র: অনিক ও রাফি (দুই বন্ধু)

অনিক: কেমন আছিস রাফি? তোকে খুব বিষণ্ণ দেখাচ্ছে কেন?
রাফি: ভালো নেই রে অনিক। আজ সকালে আসার পথে দেখলাম আমাদের পাড়ার এক কলেজপড়ুয়া ছেলে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্রে সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখতে দেখতে মনটা ভেঙে যায়।
অনিক: সত্যিই রাফি! সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে আমাদের দেশের অন্যতম বড় জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন কত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, কত পরিবার পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে।
রাফি: এর মূল কারণগুলো আসলে কী বলে তোর মনে হয়?
অনিক: চালকদের অসচেতনতা ও বেপরোয়া গতি, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন না মানা। পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতাও কম দায়ী নয়। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়া সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ।
রাফি: ঠিক বলেছিস। কিন্তু এর প্রতিকার কী?
অনিক: সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করতে হবে। পথচারীদেরও জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
রাফি: তাছাড়া স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাম্পেইন ও প্রচারণা চালানো দরকার। আমাদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক করতে হবে।
অনিক: একদম সত্য। আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগই পারে সড়ককে নিরাপদ করতে।
রাফি: ধন্যবাদ তোকে, খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হলো। চল ক্লাসে যাই।
অনিক: ধন্যবাদ তোকেও, সাবধানে চলিস।


১০.২. 'আজ সফলতার সিঁড়িতে' শিরোনামে খুদেগল্প:

জীবন বড়ই বিচিত্র। অনিকের এমন একদিন ছিল, যখন প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার মতো অর্থ তার ঘরে ছিল না। জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে আজ একটা ভালো চাকরি করে সে। বাবা বড় দুঃখে অনিক আর তার বোনকে বড় করেছিলেন। ভাঙা মাটির ঘর আর চাতালে দিনমজুরির সামান্য আয়ে সংসার চালানোই ছিল যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে সন্তানদের লেখাপড়া শেখানো ছিল এক অলীক স্বপ্ন।

অনিকের স্পষ্ট মনে পড়ে, এসএসসির ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাবা যখন ঘরে এসে নীরবে চোখের জল ফেলেছিলেন। অনিক হাল ছাড়েনি; টিউশনি করে, ছুটির দিনে রিকশা চালিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছিল। গভীর রাতে কুপি বাতির মৃদু আলোয় বইয়ের পাতায় চোখ রেখে অনিক স্বপ্ন দেখত—এই অন্ধকারের অবসান তাকে ঘটাতেই হবে। শত বাধা অতিক্রম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণি পাওয়ার পর বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয় সে।

আজ অনিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগ দিতে এসেছে। তার পরনে মার্জিত পোশাক, চোখে আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি। গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে অনিক বাবার রুক্ষ, খসখসে হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় তুলে নিল। বাবার অশ্রুসজল নয়নে আজ চরম তৃপ্তি। অনিক মনে মনে বলল—অদম্য ইচ্ছা, সততা আর পরিশ্রম থাকলে জীবনের কোনো অভাবই মানুষের সফলতার সিঁড়িতে ওঠার পথে অন্তরায় হতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন