বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

মনির সাহেব পুত্র সন্তান কামনা করে করে চার মেয়ের জনক হয়েছেন। কিন্তু তার বড় মেয়ে ফাহিমা বিজ্ঞান বইয়ে পড়েছে প্রতিটি জীবকোষের নিউক্লিয়াসে নির্দিষ্ট সংখ্যক অঙ্গাণু থাকে যা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় স্থানান্তর করে।

  1. ক)

    টেস্টটিউব বেবি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভাইরাস কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ফাহিমার পঠিত অঙ্গাণুটির গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পুত্র সন্তান জন্মদানে মনির সাহেব ও তার স্ত্রীর অবদান সমান- যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কৃত্রিম উপায়ে দেহের বাইরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে প্রাথমিক ভ্রূণ তৈরি করে সেটি নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে যে শিশুর জন্ম হয়, তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে।

  2. খ)

    বিজ্ঞানীদের গবেষণানির্ভর অনুমান অনুযায়ী পৃথিবীর আদি বায়ুমণ্ডলে মিথেন, অ্যামোনিয়া, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি গ্যাস ছিল। আগ্নেয়গিরির তাপ, বজ্রপাত ও অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এগুলো মিলিত হয়ে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে। প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড মিলে নিউক্লিওপ্রোটিন হয়। এই নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস এবং তা থেকে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। ভাইরাস জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা।

    নিউক্লিওপ্রোটিন → প্রোটোভাইরাস → ভাইরাস

  3. গ)

    ফাহিমার পঠিত অঙ্গাণুটি হলো ক্রোমোজোম, যা নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে এবং বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।

    গঠন:
    ১. কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম মোটা ও খাটো হয়ে সুস্পষ্ট দেখা যায়। মেটাফেজ দশায় এটি সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়।
    ২. এ সময় প্রতিটি ক্রোমোজোমে দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড থাকে, যারা সেন্ট্রোমিয়ার নামক অংশে যুক্ত থাকে।
    ৩. ক্রোমোজোম মূলত DNA ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত ক্রোমাটিন সুতা থেকে তৈরি। DNA এর নির্দিষ্ট অংশ হলো জিন, যা বংশগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
    ৪. মানুষের কোষে ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোজোম থাকে।

  4. ঘ)

    পুত্র সন্তান জন্মদানে মনির সাহেব ও তাঁর স্ত্রী—দুজনের ভূমিকা সমান নয়, বরং লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পিতার ভূমিকাই নির্ধারক। তবে বংশগত উপাদান দানে দুজনের অবদান সমান। যুক্তি—

    ১. সমান বংশগত অবদান: মা ডিম্বাণুর মাধ্যমে ২৩টি এবং পিতা শুক্রাণুর মাধ্যমে ২৩টি ক্রোমোজোম দেন। দুটি মিলে ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোজোমের জাইগোট তৈরি হয়।
    ২. মায়ের ডিম্বাণু: মেয়েদের সব ডিম্বাণুতে ২২টি অটোজোম ও একটি X ক্রোমোজোম থাকে। তাই মা সবসময় X-ই দেন।
    ৩. পিতার শুক্রাণু: ছেলেদের শুক্রাণু দুই রকম—২২টি অটোজোম + X অথবা ২২টি অটোজোম + Y। Y শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিললে XY (পুত্র) এবং X শুক্রাণু মিললে XX (কন্যা) হয়।
    ৪. অতএব, মনির সাহেবের চার মেয়ে হওয়ার জন্য তাঁর স্ত্রী দায়ী নন। কোন শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলবে, সেটিই লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

    সুতরাং, সন্তানের বংশগত বৈশিষ্ট্যে দুজনের অংশ সমান হলেও পুত্র সন্তান জন্মের জন্য মায়ের কোনো দায় নেই।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন