ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব জয়নাল তার পুত্র মফিজকে বললেন, বিনা বাধায়, বিনা রক্তপাতে মুসলিম বাহিনী মক্কা বিজয় করল। মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (স) ঘোষণা করলেন, "আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত ও স্বাধীন।” মহানবি (স) অন্য বক্তব্যে বললেন, "আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি-আসবে না।"

  1. ক)

    হিলফুল ফুযুল কী?

    (1)
  2. খ)

    হযরত খাদিজা (রা)-এর বিশ্বস্ত কর্মচারী মাইসারাকে কেন মুহাম্মদ (স)-এর সাথে সিরিয়া পাঠান?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মহানবি (স)-এর কোন গুণটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত মহানবি (স)-এর শেষের বক্তব্যটি যে ভাষণের অংশ সে ভাষণের তাৎপর্য নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নবুয়তের আগে মক্কায় অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষকে সাহায্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুবকদের গঠিত সংঘকে হিলফুল ফুযুল বলে।

  2. খ)

    মুহাম্মদ (সা.) তরুণ বয়স থেকেই সত্যবাদিতা ও আমানতদারির জন্য ‘আল-আমিন’ নামে পরিচিত ছিলেন। হযরত খাদিজা (রা.) তাঁর এই সততার কথা শুনে তাঁকে ব্যবসার পণ্য নিয়ে সিরিয়া যেতে অনুরোধ করেন। মাইসারাকে সাথে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসার কাজে সাহায্য করা এবং সফরের বিষয়ে খাদিজা (রা.)-কে অবহিত করা। এভাবে মাইসারার মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.)-এর সততা ও ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় খাদিজা (রা.)-এর কাছে পৌঁছায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে মহানবি (সা.)-এর ক্ষমা ও উদারতা গুণটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    মক্কা বিজয়ের পর যাঁরা বছরের পর বছর রাসুলুল্লাহ (সা.) ও মুসলমানদের ওপর অত্যাচার করেছিল, তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি ঘোষণা করেন, ‘আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত ও স্বাধীন।’ এতে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় হয় এবং শত্রুরাও সাধারণ ক্ষমা পায়। এই ঘটনা তাঁর অসাধারণ ক্ষমাশীলতা ও মহত্ত্বের প্রমাণ।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটি মহানবি (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণের অংশ। এই ভাষণের তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মানবাধিকার ঘোষণা: জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা এবং সকল মানুষের সমতার কথা এ ভাষণে বলা হয়েছে। আরব-অনারব, সাদা-কালোর মধ্যে তাকওয়া ছাড়া কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
    ২. অন্যায় প্রথার বিলোপ: জাহিলি যুগের সুদ ও রক্তের প্রতিশোধ প্রথা বাতিল করা হয়।
    ৩. নারীর অধিকার: নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    ৪. পথনির্দেশ: কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ এবং শেষ নবি হিসেবে তাঁর পর আর নবি না আসার ঘোষণা রয়েছে।

    সুতরাং, বিদায় হজের ভাষণ ইসলামের একটি সার্বজনীন সংবিধানের মতো এবং মানবজাতির জন্য চিরন্তন দিকনির্দেশনা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন