‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি সাংবিধানিক সংস্থা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে।

  1. ক)

    বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার প্রধান কে?

    (1)
  2. খ)

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটির কার্যাবলি আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা। মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের মূল আইন বা সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধানের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় এবং যাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কাঠামোর নিশ্চয়তা সংবিধান দ্বারা প্রদান করা হয়, সেগুলোকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়। যেমন— নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। সংবিধানে উল্লেখিত থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আইনি সুরক্ষা ভোগ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সংবিধানের ১৩৭নং অনুচ্ছেদের আলোকে ইঙ্গিতকৃত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন' (Bangladesh Public Service Commission - BPSC)।

    বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রধান কার্যাবলি নিম্নরূপ:
    ১. নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা: প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে উপযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন: বিসিএস) গ্রহণ ও বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা।
    ২. নিয়োগবিধি ও যোগ্যতা নির্ধারণে পরামর্শ: কোনো পদে নিয়োগের পদ্ধতি এবং সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
    ৩. পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত পরামর্শ: এক সেবা হতে অন্য সেবায় বদলি, পদোন্নতি এবং প্রার্থীর উপযোগিতা যাচাই সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ প্রদান করা।
    ৪. শৃঙ্খলা ও দণ্ডমূলক ব্যবস্থা: চাকুরির শর্তাবলি, পেনশন অধিকার বা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কমিশনের মতামত প্রদান করা।
    ৫. বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ: প্রতি বছর কমিশন কর্তৃক সম্পাদিত কাজের একটি বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    নিম্নোক্ত দিকগুলোর ভিত্তিতে পিএসসির ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতকরণ: পিএসসি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে কেবল মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের সুপারিশ করে। এতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পায়।
    ২. দক্ষ কর্মকর্তা নির্বাচন: আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান এবং মানসিক দক্ষতাসম্পন্ন প্রার্থীদের খুঁজে বের করতে কমিশন সময়োপযোগী পরীক্ষা পদ্ধতি ও মৌখিক পরীক্ষা পরিচালনা করে।
    ৩. নিরপেক্ষ পরামর্শ প্রদান: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি এবং আচরণবিধির ক্ষেত্রে পিএসসি স্বাধীনভাবে সরকারকে পরামর্শ দেয়, যা প্রশাসনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
    ৪. প্রশাসনিক গতিশীলতা: যোগ্য ব্যক্তিরা যখন সঠিক পদে আসীন হন, তখন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন গতিশীল হয় এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যোগ্য ও দায়িত্বশীল জনবল নিয়োগের মাধ্যমে একটি আধুনিক, সৎ ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন