যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
অনুমান কী?
- খ)(2)
অমাধ্যম অনুমান প্রকৃত অনুমান নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ‘B’ অংশটি কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করে? বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের A ও B মধ্যে বৈসাদৃশ্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জ্ঞাত সত্যের ওপর নির্ভর করে কোনো অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অমাধ্যম অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। যুক্তিবিদদের মতে (যেমন মিল ও বেইন), এতে কোনো নতুন জ্ঞানের সন্ধান পাওয়া যায় না; আশ্রয়বাক্যে যা নিহিত থাকে সিদ্ধান্ত কেবল তারই একটি ভাষান্তর বা রূপান্তর মাত্র। যেহেতু এতে প্রকৃত জ্ঞানের অগ্রগতি বা কোনো নতুন তথ্যের আবিষ্কার ঘটে না, তাই অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান বলা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘B’ অংশটি যুক্তিবিদ্যার 'আরোহ অনুমান'কে ইঙ্গিত করে। কারণ চিত্রে B দ্বারা ‘বিশেষ → সার্বিক’ অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে যাওয়ার প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে।
আরোহ অনুমানের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা: আরোহ অনুমানে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ ঘটনার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
২. আরোহমূলক উল্লম্ফন: এটি জানা থেকে অজানায়, প্রত্যক্ষ থেকে অপ্রত্যক্ষে গমনের একটি মানসিক ঝুঁকি বা উল্লম্ফন ধারণ করে।
৩. বস্তুগত সত্যতা: আরোহের সিদ্ধান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হয়, ফলে এটি বস্তুগত সত্যতা অর্জনের লক্ষ্য রাখে।
৪. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম: আরোহ অনুমানের মূল ভিত্তি হলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' হলো অবরোহ অনুমান (সার্বিক → বিশেষ) এবং 'B' হলো আরোহ অনুমান (বিশেষ → সার্বিক)। নিম্নে এদের মধ্যকার বৈসাদৃশ্যসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. গতি বা প্রক্রিয়ার দিক থেকে: অবরোহ অনুমানে চিন্তার গতি সার্বিক থেকে বিশেষের দিকে যায়। পক্ষান্তরে, আরোহ অনুমানে চিন্তার গতি বিশেষ থেকে সার্বিকের দিকে যায়।
২. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা: অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত কোনো অবস্থাতেই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। কিন্তু আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত সবসময়ই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপকতর হয়।
৩. সত্যতার দিক: অবরোহ অনুমানে আকারের দিক অর্থাৎ রূপগত সত্যতার ওপর জোর দেওয়া হয়। অন্যদিকে, আরোহ অনুমানে আকারগত ও বস্তুগত—উভয় সত্যতার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৪. অনুমানের ভিত্তি: অবরোহের ভিত্তি হলো যুক্তির আকার এবং প্রচলিত সার্বিক নিয়ম; পক্ষান্তরে আরোহের ভিত্তি হলো বাস্তব পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ, কার্যকারণ নিয়ম এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি।
৫. নিশ্চিততার মাত্রা: অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত ও অকাট্য, তবে তা কোনো নতুন তথ্য দেয় না। অন্যদিকে, আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য থেকে সুনিশ্চিতের দিকে অগ্রসর হয় এবং এটি সম্পূর্ণ নতুন তথ্যের সন্ধান দেয়।পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞানার্জনের প্রক্রিয়ায় এই দুই অনুমান বিপরীতমুখী হলেও যুক্তিবিদ্যায় এদের একটির পরিপূরক হিসেবে অপরটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও