পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বিক্রমনগর' বিশাল আয়তনের একটি জনবহুল অাল। অঞ্চলটিতে প্রধানত দুইটি সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকায় প্রায়ই অস্থিরতা বিরাজমান ছিল। একটি সম্প্রদায়ের একজন জনপ্রিয় নেতা বিরোধী দলীয় সম্মেলনে রাজনৈতিক সমস্যা নিরসনের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবে সংখ্যালঘুরা যেসব স্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এ প্রস্তাবটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
- ক)(1)
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে পেশকৃত প্রস্তাবটি তোমার পঠিত কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রস্তাবটি যে প্রভাব ফেলেছে তার ফলাফল পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত গণহত্যা পরিচালনা করেছিল, তার সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে সমূলে ধ্বংস করা এবং বাঙালি জাতিকে স্তব্ধ করে দেওয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পেশকৃত প্রস্তাবটি ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'কে নির্দেশ করে।
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হকের মাধ্যমে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব অঞ্চলের মতো যেসকল অঞ্চলে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র (Independent States) প্রতিষ্ঠা করা হবে।
উদ্দীপকে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে একটি অঞ্চলের বিরোধী দলীয় সম্মেলনে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের যে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মূল ভাবধারাকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত লাহোর প্রস্তাবের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং এর চূড়ান্ত ফলাফল ছিল ভারতীয় উপমহাদেশ বিভাজন ও পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি।
লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিমদের পৃথক জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ভিত্তি রচিত হয়। এর প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
তবে লাহোর প্রস্তাবে 'States' বা একাধিক রাষ্ট্রের উল্লেখ থাকলেও কায়েদে আজম জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ নেতারা পরবর্তীতে তা সংশোধন করে একটি একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের রূপ দেন। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশে পরিণত হয় এবং বাঙালিরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শোষিত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাঙালি জাতি লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধিকার আন্দোলন গড়ে তোলে, যা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত করে।
সুতরাং, লাহোর প্রস্তাবের ফলাফল শুধু পাকিস্তান সৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঐতিহাসিক পটভূমিও তৈরি করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও