ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • যৌথমূলধনী ব্যবসায় • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাশ করার পর জনাব মোজাফফর হোসেন এবং তার সাত বন্ধু মিলে একটি কোম্পানি গঠনের চেষ্টা করেন। তারা একজন কোম্পানির আইন উপদেষ্টা নিয়োগ করে পরামর্শ নেন। উপদেষ্টা জানান, প্রথমে কোম্পানির কার্যক্রমের জন্য দুটি দলিল তৈরি করে নিবন্ধন পত্র সংগ্রহ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কোম্পানি কাজ শুরু করার জন্য অনুমতি পত্র প্রয়োজন হবে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সবাই মিলে একটি কোম্পানি সংগঠন গড়ে তোলেন।

  1. ক)

    বিবরণ পত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    হোল্ডিং কোম্পানি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব মোজাফফর হোসেন ও তার বন্ধুরা কোন ধরনের কোম্পানি গঠনের চেষ্টা করছেন?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে যে দুটি দলিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানি গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে উক্ত দলিল দুটির তুলনামূলক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসাধারণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে কোম্পানি কর্তৃক প্রচারিত লিখিত আহ্বানপত্র বা বিজ্ঞাপনকে বিবরণপত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোল্ডিং কোম্পানি হলো এমন কোম্পানি যা অন্য কোনো কোম্পানির (সাবসিডিয়ারি কোম্পানি) ৫০% এর বেশি ভোটাধিকার বা শেয়ার ধারণ করে অথবা তার পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালক নিয়োগ বা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। একাধিক অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও কার্য পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিজের অধীনে রাখায় এর মূলধন, কার্যক্রম এবং সামগ্রিক পরিধি অত্যন্ত সুবিশাল হয়। এ কারণেই হোল্ডিং কোম্পানি একটি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জনাব মোজাফফর হোসেন ও তাঁর বন্ধুরা একটি ‘পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’ গঠনের চেষ্টা করছেন।

    ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যে কোম্পানির ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং যা কাজ শুরু করার জন্য নিবন্ধনপত্রের পাশাপাশি কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে বাধ্য, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মোজাফফর ও তাঁর ৭ বন্ধু মিলে মোট ৮ জন সদস্য কোম্পানিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। উপদেষ্টা তাঁদের জানান যে নিবন্ধনপত্র ছাড়াও তাঁদের ‘কাজের অনুমতিপত্র’ বা কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্রের প্রয়োজন না হলেও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে এটি বাধ্যতামূলক। সুতরাং, তাঁরা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠনের চেষ্টা করছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দলিল দুটি হলো ‘স্মারকলিপি’ (Memorandum of Association) এবং ‘পরিমেল নিয়মাবলি’ (Articles of Association)। কোম্পানি গঠন ও পরিচালনায় এ দুটি দলিলের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল বা প্রধান দলিল, যাকে কোম্পানির সংবিধান ও সনদ বলা হয়। এতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়, উদ্দেশ্য, মূলধন, দায় ও সম্মতি সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়াবলি লিপিবদ্ধ থাকে। কোম্পানির ক্ষমতার সীমা এতে নির্ধারিত থাকে; স্মারকলিপির বাইরে কোম্পানি কোনো কাজ করতে পারে না। এটি মূলত কোম্পানির সাথে বহির্বিশ্বের বা তৃতীয় পক্ষের সম্পর্ক নির্ধারণ করে।

    অপরদিকে, পরিমেল নিয়মাবলি হলো কোম্পানির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়মনীতি—যেমন পরিচালকদের ক্ষমতা, শেয়ার হস্তান্তর ও বাজেয়াপ্তকরণ পদ্ধতি, সভার নিয়ম ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে। এটি স্মারকলিপির অধীনে প্রস্তুত করা হয় এবং স্মারকলিপির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

    তুলনামূলক বিচারে, দুটি দলিলের মধ্যে স্মারকলিপির গুরুত্ব বেশি। কারণ কোনো বিরোধ দেখা দিলে পরিমেল নিয়মাবলির চেয়ে স্মারকলিপির সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পায় এবং পরিমেল নিয়মাবলি স্মারকলিপির পরিপন্থী হতে পারে না। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু শৃঙ্খলার জন্য পরিমেল নিয়মাবলিও অপরিহার্য। অতএব, কোম্পানি গঠন ও সুষ্ঠু পরিচালনায় উভয় দলিলই পরিপূরক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন